সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন শুক্রবার বা জুমার দিন। এই দিন জোহরের নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজ পড়তে হয়। জুমার নামাজ দুই রাকাত। মুসলমানরা আল্লাহর ঘর মসজিদে সমবেত হয়ে খুতবা শোনেন। এরপর দুই রাকাত জুমার ফরজ আদায় করেন।
জুমার দিনের গুরুত্ব অনেক বেশি। এই দিন ইতিহাসে নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার জন্ম হয়েছে। অন্যদিকে বর্তমানে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে সপ্তাহের এই দিন ছুটি থাকে। কোরআন-হাদিসে জুমার দিনের আমল সম্পর্কে নানা বর্ণনা রয়েছে।
এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘জুমার দিন এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, তা-ই তাকে দেওয়া হয়। আর এ সময়টি হলো জুমার দিন আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৯৩৫)
আরেক হাদিসে আছে, ‘জুমার রাতে বা দিনে যে ব্যক্তি মারা যায়, আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের ফেতনা থেকে রক্ষা করবেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১০৭৮)
জুমার দিন তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন জুমার দিন আসে ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে প্রথম থেকে পর্যায়ক্রমে আগন্তুকদের নাম লিখতে থাকে। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি উট সদকা করে। তারপর যে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি গাভী সদকা করে। তারপর আগমনকারী মুরগি সদকাকারীর মতো। তারপর আগমনকারী একটি ডিম সদকাকারীর মতো। এরপর যখন ইমাম খুতবা দিতে বের হন, তখন ফেরেশতারা তাদের দফতর বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনতে থাকেন।’ (বুখারি, হাদিস, ৮৮২)
আরও পড়ুন
জুমার দিন জুমার নামাজের জন্য দুটি আজান দেওয়া হয়। প্রথমটি জুমার সময় হওয়ার পর। আর দ্বিতীয়টি জুমার নামাজের খুতবার আগে। ইসলামের প্রথম যুগে জুমার আজান একটি ছিল। তখন শুধু খুতবার আগেই আজান দেওয়া হতো। পরে মানুষের অবহেলা বেড়ে গেলে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রা.) প্রথম আজানটি চালু করেন।
বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী প্রথম আজানের পর দুনিয়াবী কোনো কাজে আত্মনিয়োগ করা যাবে না। প্রথম আজানের পরই মসজিদ অভিমুখে যাত্রা করা ওয়াজিব। এই সময়ে জুমার নামাজের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজ করা নাজায়েয ও হারাম।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, জুমার দিন যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটিই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি কর। (সুরা জুমআ, আয়াত: ৯)
আয়াতে সালাতের জন্য আহ্বান বলতে মৌলিকভাবে দ্বিতীয় আজান (খুতবার আজান) উদ্দেশ্য হলেও শব্দের ব্যাপকতার মাঝে জুমার প্রথম আজানও অন্তর্ভুক্ত। তাই তাফসীরবিদ ও ফিকহবিদগণের নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী প্রথম আজানের পরও জুমার প্রস্তুতিমূলক কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া এই আয়াতের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত। আর জুমার দ্বিতীয় আজানের পর বেচাকেনা এবং পার্থিব যেকোনো কাজ নাজায়েয ও গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
তাই জুমার দিন প্রথম আজানের পর শুধু জুমার প্রস্তুতিমূলক কাজ, যেমন, নামাজের জন্য গোসল, অজু, কাপড় পরিধান করা এসব কাজ করা যাবে শুধু। এর বাইরে বেচাকেনা এবং পার্থিব যেকোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
এনটি
