কালবেলা · সাধারণ
পাখির কলকাকলিতে মুখর চলনবিল
২৩/১০/২০২৬

শীত পুরোপুরি জেঁকে বসেনি। এরই মধ্যে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠেছে নাটোরের চলনবিল। বিলের জলরাশি আর সবুজ প্রকৃতির ওপর দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়াচ্ছে নানা প্রজাতির পাখি। কখনো অগভীর পানিতে ডুব দিয়ে খাবার খুঁজছে, কখনো বিলের ধারে দল বেঁধে বসে থাকছে। পাখির এই আনাগোনায় বদলে গেছে চলনবিলের চিরচেনা দৃশ্যপট। প্রকৃতির এমন রূপ দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালেই রয়েছে উদ্বেগ- অবৈধ পাখি শিকার, জলাভূমি সংকোচন ও পানির স্বল্পতা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, পাখির ডানার ঝাপটানি আর কলকাকলিতে মুখর বিলের বিস্তীর্ণ জলাভূমি। সাদাবক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, ডাহুক, গাংচিল, কাঁদাখোঁচা, শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা মিলছে সেখানে। নীল আকাশে পাখির উড়ে চলা আর জলরাশিতে তাদের বিচরণে তৈরি হচ্ছে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
প্রকৃতির এই দৃশ্য স্থানীয় মানুষের কাছে যেমন আনন্দের, তেমনি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আশার বার্তাও বহন করে। তবে পাখির নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র নিশ্চিত করা না গেলে এই সৌন্দর্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন পরিবেশকর্মীরা।
চলনবিল পরিবেশ উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ফোরামের সভাপতি জুলহাস কায়েম বলেন, প্রতিবছর শীতের আগমনে দেশের বিভিন্ন জলাভূমিতে পরিযায়ী পাখিরা আসতে শুরু করে। চলনবিলেও ইতিমধ্যে নানা প্রজাতির পাখির দেখা মিলছে। খাবারের সন্ধানে এসব পাখি কখনো পানিতে, কখনো বিলের তীরে বিচরণ করছে। কিন্তু জলাভূমি সংকোচন, পানির স্বল্পতা ও অবৈধ শিকার তাদের নিরাপদ বিচরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, পাখি রক্ষায় জলাভূমি সংরক্ষণের পাশাপাশি শিকার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করাও জরুরি।
স্থানীয় যুবক এবি সিদ্দিক ও আবু সাইদ, রাজু আহমেদ বলেন, অতিথি পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। এসব পাখি রক্ষায় চলনবিলে অভয়াশ্রম গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি ও জনসচেতনতা আরও বাড়াতে হবে।
অতিথি পাখি রক্ষায় কাজ করছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। অবৈধ শিকার বন্ধে অভিযানও চালাচ্ছে প্রশাসন। সম্প্রতি সিংড়ায় পরিবেশকর্মীদের অভিযানে ৮ জনকে পাখি শিকারের অপরাধে অর্থদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে জেল হেওয়া হয়। অভিযান চালিয়ে পাঁচটি বক উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পাখিগুলো অবমুক্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত।
ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পাখি শিকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত আছে। আইন অমান্য করে পাখি শিকার করলে জেল-জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু কালবেলাকে বলেন, চলনবিল এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যে। অতিথি পাখি রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। পাখি শিকার বন্ধ, জলাভূমি সংরক্ষণ ও পাখির নিরাপদ আবাসস্থল তৈরিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗