দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকার পর অসুস্থতা বোধ করায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাসের বাইরে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে উপাচার্য ভবন থেকে বের করে আনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় তাঁকে সেখান থেকে বের করে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
উপাচার্যকে ক্যাম্পাসের বাইরে নেওয়ার আগে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাঁরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া শোনেন। পরে উপাচার্য শারীরিক অসুস্থতা বোধ করার কথা জানালে তাঁর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ক্যাম্পাসের বাইরে নেওয়া হয়। এ সময় তাঁর নিরাপত্তায় কড়া পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
উপাচার্যকে উদ্ধারের এ উদ্যোগের আগে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে আসে। মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্য ভবনে গিয়ে চিকিৎসকেরা তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক মো. শাহাবুদ্দিন পরীক্ষার পর তাঁর পালস ও রক্তচাপ স্বাভাবিক বলে জানান। তবে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা টিপলু কান্তি দে পরে পরীক্ষা করে উপাচার্যের রক্তচাপ ১৫০/১০০ পেয়েছেন বলে জানান। তিনি উপাচার্যকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ নিয়ে চিকিৎসকদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দেয়।
এর আগে উপাচার্য সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনি বুকে ব্যথা ও মাথাব্যথা অনুভব করছেন। দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় ভবনের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা অসুস্থ ও ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন বলেও জানান তিনি। অবরুদ্ধ অবস্থায় ভবনটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার অভিযোগও করেন উপাচার্য।
চুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ওই রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবি, নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল করে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশও সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম প্রশাসনিক ভবন-২-এ প্রবেশ করেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভবনের প্রবেশপথে তালা দিলে তিনি সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় তাঁকে সেখান থেকে বের করে আনা হয়।
তবে উপাচার্যকে কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে কেমন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
