Published on
:
2 min read
এই সময়: সরকারি কর্মসূচিতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’–এর ছ’টি স্তবক বাধ্যতামূলক ভাবে গাওয়ার যে নির্দেশ জারি করেছে ভারত সরকার, তা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে এ বার জনস্বার্থ মামলা করলেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার, কেরালার বালকৃষ্ণন সত্যভামা মাভোজি। তাঁর প্রধান অভিযোগ, ঐতিহ্যগত দুই স্তবকের পরিবর্তে ‘বন্দে মাতরম’-এর পুরো ছ’স্তবক গাওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছে সরকার, তা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর পরিপন্থী।
আবেদনকারী নিজেকে তফসিলি জাতিভুক্ত হিন্দু হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি বৈষ্ণব বা শাক্ত মতের অনুসারী নন। তাঁর বক্তব্য, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের অংশে ‘বন্দে মাতরম’–এর শেষ চার স্তবকে দেবী দুর্গা, সরস্বতী ও লক্ষ্মীর আরাধনা এবং হিন্দু-মুসলিম সংঘাতের প্রেক্ষাপট রয়েছে। তাঁর যুক্তি, একটি নির্দিষ্ট ধর্মের দেব-দেবী বা ধর্মীয় যুদ্ধভিত্তিক গান জোর করে নাগরিকদের উপরে চাপিয়ে দেওয়া তাঁদের বিবেক ও বিশ্বাসের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
মামলাকারী স্মরণ করিয়েছেন, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে জাতীয় কংগ্রেস ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতামত চেয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ প্রথম দুই স্তবককে (যাতে প্রকৃতির বন্দনা রয়েছে) দেশের পক্ষে মানানসই বলে গ্রহণ করার কথা বললেও পরবর্তী স্তবকগুলির ধর্মীয় ও সংঘাতমূলক বক্তব্যের সঙ্গে একমত হননি। ১৯৩৭–এ কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি রবীন্দ্রনাথের মতই মেনেছিল এবং গণপরিষদেও এ নিয়ে কোনও বিতর্ক হয়নি।
মামলাকারীর বক্তব্য, ভারত সরকারের গত জানুয়ারি ও জুলাই মাসের নির্দেশ সংবিধানের ১৪, ১৯, ২১ এবং ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের (বাক্ স্বাধীনতা, ধর্মাচরণের স্বাধীনতা ও সমতার অধিকার) পরিপন্থী। ‘বন্দে মাতরম’–এর ছ’টি স্তবক গাওয়ার নির্দেশ দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন বাড়াতে পারে এবং সংবিধানের মূল ভিত্তি ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ও ‘ভ্রাতৃত্ববোধ’-এর উপরে আঘাত হানতে পারে। তাই সরকারের জারি করা নির্দেশ খারিজ করার আর্জি জানানো হয়েছে মামলায়। সরকারি বা অন্য অনুষ্ঠানে ছয় স্তবকের ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক না করার এবং কেউ যদি ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত কারণে তা গাইতে অস্বীকার করেন, তবে তাঁকে যেন কোনও শাস্তি বা হেনস্থার শিকার হতে না হয়—তা নিশ্চিত করারও আর্জি জানানো হয়েছে।
