কালবেলা · অর্থনীতি
পাওনা টাকা আদায়ে পদ্মা ব্যাংকের গ্রাহকদের বিক্ষোভের ডাক
১৩/১০/২০২৬

পাওনা টাকা আদায় ও আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন পদ্মা ব্যাংকের ভুক্তভোগী ও আমানতকারীরা। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমা অর্থ ফেরত না পাওয়ায় এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়ে দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ‘পদ্মা ব্যাংকের সাধারণ ভুক্তভোগী ও আমানতকারী গ্রাহকবৃন্দ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় আয়োজকেরা জানান, ন্যায্য পাওনা আদায় এবং আমানতকারীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের চিত্র দেশবাসীর পাশাপাশি ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কাছে তুলে ধরতেই এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজকদের অভিযোগ, পদ্মা ব্যাংকের বহু আমানতকারী ও গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে তাদের পাওনা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। নিজেদের অর্থ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন ও যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পাওয়ায় তারা রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আয়োজক মো. জাকির হোসেন কালবেলাকে বলেন, ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই অর্থ প্রয়োজনের সময় ফেরত না পাওয়ায় অনেক আমানতকারী আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কারও সঞ্চয় আটকে আছে, আবার কারও ব্যবসা ও পারিবারিক প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ চান তারা।
তিনি আরও বলেন, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, নিজেদের বৈধ পাওনা ফেরত চান। আমানতকারীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
‘দি ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেড’ নামে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটি পরিচালনা পর্ষদের নানা আর্থিক অনিয়মের কারণে সংকটে পড়ে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি ব্যাংকটির নাম পরিবর্তন করে ‘পদ্মা ব্যাংক’ রাখা হয়।
নাম পরিবর্তনের পরও ব্যাংকটির আর্থিক সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটির একাংশের আমানতকারী ও গ্রাহক তাদের অর্থ ফেরতের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন এবং নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
এবার পাওনা টাকা আদায় ও আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে চান তারা। একই সঙ্গে দ্রুত আমানত ফেরত দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২০০ গ্রাহক এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিবেন। তবে তাদের কি পরিমাণ আমানত ব্যাংকটির আটকা পড়েছে সে বিষয়টি জানাতে পারেননি আয়োজক কমিটির সদস্য মো. জাকির হোসেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗