বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে। দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হবে পূজা-অর্চনা। এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আসবেন এবং নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন। দেবীর আগমন ও গমনের বাহন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাসে এসব বাহনের সঙ্গে প্রকৃতি, শস্য ও জনজীবনের বিভিন্ন প্রতীকী ব্যাখ্যা জড়িয়ে আছে।
মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দুর্গোৎসবে মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান ও পূজা, মহাঅষ্টমীতে অঞ্জলি ও সন্ধিপূজা এবং মহানবমীতে দেবীর পূজা ও ভোগ নিবেদন করা হবে। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এ ধর্মীয় উৎসব।
এবার দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার বেশি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি অনুদান চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরাপত্তায় প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি
দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকবেন। জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পূজামণ্ডপে নজরদারি বাড়াতে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে মনিটরিং দল সক্রিয় থাকবে। প্রতিমা বিসর্জনের সময়ও নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানো হবে।
মোতায়েন থাকবেন ২ লাখের বেশি আনসার সদস্য
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারা দেশে ৩৩ হাজার ৯৭টি পূজামণ্ডপে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) ২ লাখ ১২ হাজার ১১৪ জন সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৭ হাজারের বেশি মণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে ১০৪টি বিশেষ স্ট্রাইকিং টিম। গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
এ ছাড়া উপকূলীয় ও দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৪০০ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জানান, যেসব মণ্ডপে জনসমাগম বেশি এবং নিরাপত্তাঝুঁকি তুলনামূলক বেশি, সেগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত সাড়া দিতে স্ট্রাইকিং টিম প্রস্তুত থাকবে।
গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলায় সাইবার নজরদারি জোরদারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যাচাই করা তথ্য দ্রুত প্রকাশ করা গেলে বিভ্রান্তি কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এদিকে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধর্মীয় উপাসনালয় ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বাহিনীর ৩ হাজার ৪০০ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
তিনি আরও জানান, টহল বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হবে। স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
