দীর্ঘদিনের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী দশেরা বা বিজয়াদশমীর দিন অশুভ শক্তির প্রতীক হিসাবে রাবণের কুশপুতুল পোড়ানো হয়ে থাকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী এই বিশেষ দিনে ভগবান রাম রাবণকে পরাজিত করে লঙ্কা থেকে দেবী সীতাকে উদ্ধার করে এনেছিলেন।
তাই দশেরা মানেই অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির সূচনা করা। সারা দেশে অযোধ্যা নরেশ রামকেই ভগবান রূপে পুজো করা হয়। তবে জানলে অবাক হবেন ভারতবর্ষে এমনও কিছু গ্রামার রয়েছে যেখানে পূজিত হল স্বয়ং রাবণ। এমনকি দশেরার দিনেও তারা রাবণের কুশপুতুল পোড়ানো থেকে বিরত থাকেন। কোথাও আবার রাবণকে ঘরের জামাই হিসাবে শ্রদ্ধা করা হয়। আসুন দেখে নেওয়া যাক ভারতবর্ষের কোথায় রয়েছে এই পাঁচটি অদ্ভুত গ্রাম।
উত্তর প্রদেশের বিসরাখ
উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার কাছে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় গ্রাম বিসরাখ। ভারতবর্ষের অন্যান্য গ্রামের তুলনায় এখানকার দশেরা পালনের ধরণ একেবারে আলাদা। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই গ্রামটি ছিল রাবণের জন্মস্থান। এই গ্রামের মানুষের কাছে রাবণ শুধুমাত্র রামের একজন প্রতিপক্ষ নন। তারা রাবণকে একজন পন্ডিত ব্রাহ্মণ হিসাবে গণ্য করেন।
প্রচলিত বিশ্বাস থেকে এই গ্রামের দশরা অন্যরকম ভাবে পালন করা হয়। সারা দেশের মানুষ যখন দশেরার দিন, দশরথ রাবণের কুশপুতুল পোড়ায় তখন এই গ্রামের মানুষজন নবরাত্রির সময় সমস্ত আচার অনুষ্ঠান পালন করার পাশাপাশি যজ্ঞ করেন। আগেই বলেছি এখানকার মানুষজন রাবণকে একজন পন্ডিত ব্রাহ্মণ হিসাবে শ্রদ্ধা করেন। তাই রাবণের কুশপুতুল পোড়ানোকে তারা একজন ব্রাহ্মণকে হত্যা করার সমান বলে মনে করেন। যার ফলে তাদের গ্রামের ওপর দুর্ভাগ্য নেমে আসতে পারে বলেও মনে করেন তারা।
মধ্যপ্রদেশের মান্দসৌর: রাবণের শ্বশুরবাড়ি
পশ্চিম মধ্যপ্রদেশের মান্দসৌরকে রাবণের শ্বশুরবাড়ি বলা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, রাবণের স্ত্রী মন্দোদরীর জন্ম হয়েছিল এই গ্রামে। তাই এই গ্রামের বাসিন্দারা রাবণকে জামাই বলে মনে করেন।
তাই অন্যান্য গ্রামের তুলনায় এখানেও দশেরা পালনের পদ্ধতি আলাদা হয়ে থাকে। এই গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে রাবণ জামাই হিসেবে পরিচিত। তাই দশেরার দিন অনেকেই তাঁর কুশপুতুল পোড়ানোর বদলে শ্রদ্ধা জানান।
কানপুর উত্তর প্রদেশ
কানপুরের শিওয়ালা এলাকায় রাবণের মন্দিরে আচার অনুষ্ঠান পালনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সূচি মেনে চলা হয়। যা এখানকার দশেরাকে অন্যান্য জায়গা থেকে একেবারে আলাদা করে তোলে। সাধারণত দেশের বেশিরভাগ জায়গায় রাবণের কুশপুতুল পোড়ানো হলেও, এই গ্রামের রাবণ ভক্তরা তার কাছে প্রার্থনা করে, 'জয় লঙ্কেশ' স্লোগান দিয়ে থাকেন।
এখানে রাবণকে ভগবান শিব এবং দেবী ছিন্নমস্তার সাথে যুক্ত একটি মূর্তি হিসেবে পুজো করা হয়। সবচেয়ে মজার বিষয় হল এই মন্দিরের দরজা ভক্তদের জন্য সারা বছর বন্ধ থাকলেও দশেরার দিন খুলে দেওয়া হয়।
https://youtu.be/Gt-oz49uh6Y?si=6ySeLO7ZOvagcgvT
মধ্যপ্রদেশের রাবণগ্রাম:
মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলার রাবণগ্রামে রাবণ তাদের পরিবারের সদস্যের মতো। এখানকার স্থানীয় মানুষজনের বিশ্বাস রাবণের পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্বপুরুষের এক বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে।
এই গ্রামে রাবণের যে মন্দির রয়েছে সেখানে প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল আকারের রাবণের মূর্তি শোয়ানো রয়েছে। গ্রামের বাসিন্দারা মূর্তিটিকে শ্রদ্ধার সাথে রাবণ বাবা হিসেবে পুজো করেন। তাদের বিশ্বাস রাবণ শুধু একজন পৌরাণিক চরিত্র নন, তিনি তাদের পারিবারিক বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের প্রতীক।
অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনারা:
অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী শহর কাঁকিনাড়ায় রাবণকে ভগবান শিবের ভক্ত হিসেবে পুজো করা হয়। এই গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে রাবণের শিবভক্তির কাহিনি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, শিবের প্রতি তাঁর গভীর ভক্তির জন্যই এখানে তাঁকে স্মরণ করা হয়।
