ডেটা সেন্টারের ওপর নির্ভর না করেই ইন্টারনেট-সংযুক্ত বিভিন্ন ডিভাইসে নিজেদের অনুলিপি তৈরি করে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মডেল। এমনকি স্মার্ট ওভেন, অ্যান্ড্রয়েড টিভি বক্সসহ ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তির সাধারণ ডিভাইসও এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে। এ ধরনের সক্ষমতা অর্জনে ছোট আকারের এআই মডেলগুলোর আর মাত্র কয়েক মাস লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক।
সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা পরীক্ষা করে দেখেছে, এআই মডেলগুলো নিরাপত্তার দুর্বলতা থাকা ডিভাইস শনাক্ত করতে, সেগুলোতে নিজেদের অনুলিপি স্থাপন করতে এবং মানুষের সহায়তা ছাড়াই অন্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তে পারে কি না।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ বিলিয়ন প্যারামিটারের কম আকারের কিছু এআই মডেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে পারে। তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে এসব মডেল এখনো সমস্যায় পড়ে।
অ্যানথ্রপিকের সরলীকৃত পরীক্ষায় কিছু নিরাপত্তাব্যবস্থা বাদ দেওয়ার পর দেখা গেছে, জিএলএম-৫.২ এবং এর চেয়ে শক্তিশালী মডেলগুলো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অনুলিপি তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সতর্কতা, এ ধরনের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম এআই মডেল নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। কারণ, প্রচলিত ম্যালওয়্যারের মতো এগুলোকে বন্ধ করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্রীয় সুইচ নাও থাকতে পারে। পাশাপাশি অপরিচিত ডিভাইসের ধরন ও দুর্বলতা নিজেরাই শনাক্ত করার সক্ষমতা অর্জন করলে এগুলো ডেটা সেন্টারের প্রসেসরসহ বিভিন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
গবেষণায় স্মার্ট টিভি, অ্যান্ড্রয়েড টিভি বক্স, স্মার্ট গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য ইন্টারনেট-সংযুক্ত ডিভাইসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অ্যানথ্রপিকের মতে, এসব ডিভাইসে প্রায়ই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে না। ফলে এগুলো এ ধরনের এআই মডেলের বিস্তারের সম্ভাব্য মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
অ্যানথ্রপিক আরও জানিয়েছে, ছোট আকারের এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা অতীতের মতো গতিতে বাড়তে থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এগুলো মানুষের সরাসরি সহায়তা ছাড়াই নিজেদের অনুলিপি তৈরি করে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হতে পারে। এরপর মডেলের প্যারামিটার বা ওজনের ভিত্তিতে তৈরি ছোট আকারের স্বয়ংক্রিয় প্রতিলিপি ব্যবস্থাও একই ধরনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
তবে এ ধরনের এআই ব্যবস্থা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে—এমনটা মনে করছে না প্রতিষ্ঠানটি। তাদের ধারণা, এসব ব্যবস্থা তুলনামূলক ধীরে বিস্তার লাভ করতে পারে এবং সহজলভ্য, কিন্তু নিরাপত্তার দিক থেকে দুর্বল কম্পিউটিং অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করবে।
এ ঝুঁকি মোকাবিলায় ইন্টারনেট-সংযুক্ত ডিভাইস ও কম্পিউটিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এআই এজেন্টের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া কঠিন করে তুলতে পারলে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/
