Published on
:
2 min read
সৌদি আরবে ফের হামলা চালাল হুথি বিদ্রোহীরা। তবে আকাশেই মিসাইল রুখে দেয় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। শনিবারের এই হামলায় মক্কা, মদিনা-সহ একাধিক এলাকায় মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। তবে এই ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি।
সৌদি প্রশাসনের দাবি, এ দিন দুপুরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মিসাইল হামলা চালায় হুথি বিদ্রোহীরা। গত কয়েক দিনের লাগাতার হামলার জন্য আগে থেকেই সতর্ক ছিল সেনা। সক্রিয় ছিল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও। আকাশেই হুথিদের ছোড়া মিসাইল ধ্বংস করে দেয় তারা। তবে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে সৌদির বিভিন্ন এলাকায়।
হামলার পরে X পোস্টে সৌদি সিভিল ডিফেন্স লিখেছে, ‘সন্ত্রাসবাদী হুথি গোষ্ঠীর ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে এসে পড়েছে।’ মক্কার কাছে ওয়াদি মুগামাস, জেড্ডার আল-নুজ়হা, তায়েফের ওয়াদি জলিল এবং রাবিঘের একটি জনবসতিহীন এলাকায় মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।
হামলার কথা স্বীকার করে নিয়েছে হুথিরাও। বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির বলেছেন, ‘রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মাম ও নজরান অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলিতে হামলা চালানো হয়েছে।’ দু’টি তেল পরিকাঠামো, একটি পাইপলাইন এবং একটি বিমানঘাঁটিও তাঁদের নিশানায় ছিল বলে দাবি করেছেন ইয়াহিয়া। তবে মক্কা ও মদিনার দিকে মিসাইল ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
#الدفاع_المدني : سقوط شظايا اعتراض صاروخين باليستيين أطلقتهما الميليشيا الحوثية الإرهابية باتجاه منطقتي مكة المكرمة والمدينة المنورة. https://t.co/gV1ix7H29e
— الدفاع المدني السعودي (@SaudiDCD) October 24, 2026
শুধু সৌদি নয়, এ দিন নিজেদের দেশ ইয়েমেনেই হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের অভিযোগ, দক্ষিণের বন্দর শহর এডেনে উপকূলরক্ষী বাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে হুথিরা। এই নিয়ে অবশ্য মুখ খোলেননি বিদ্রোহীদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া।
গত কয়েক দিন ধরেই সৌদিতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে হুথি বিদ্রোহীরা। ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন করে সৌদি। এটাই তাদের রাগ। ২০২২-এ রাষ্ট্রপুঞ্জের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি লাগু হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনে তা সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে। তার পর থেকেই চলছে সংঘর্ষ। ইরান-আমেরিকার সংঘর্ষ থামলেও হুথি ও সৌদির পারস্পরিক আক্রমণের জেরে পশ্চিম এশিয়ার অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
