পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোটকাটারায় ইউসুফ খান প্লাজা মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের স্পেশাল রেসপন্স টিম ও লাইটিং ইউনিটসহ মোট ১২টি ইউনিটের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অতিরিক্ত ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চার ফায়ার সার্ভিস সদস্য হলেন পলাশী ফায়ার স্টেশনের ফায়ারফাইটার মো: জিল্লুর রহমান ও লিডার মো: নজরুল ইসলাম, সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো: মারুফ এবং খিলগাঁও ফায়ার স্টেশনের লিডার মো: মাহাফুজুর হক মজুমদার।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ২ মিনিটে মার্কেটটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ৫টা ৪ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় পরে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে ১০টি ইউনিটের সাথে স্পেশাল রেসপন্স টিম ও একটি লাইটিং ইউনিট যুক্ত হয়ে মোট ১২টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ১৫০ জন কর্মী এ কাজে অংশ নেন। তাদের সাথে স্থানীয় দুই থেকে তিন শ’ বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন।
তিনি আরো জানান, পুরান ঢাকার সরু রাস্তা ও ভবনের কাঠামোগত জটিলতার কারণে ভারী পানিবাহী গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় সাধারণ নাগরিকের হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মার্কেটের ভেতরে অতিরিক্ত ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য জাতীয় বার্ন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভবনের ভেতরে থাকা কসমেটিক ব্যাগের একটি গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত বিভিন্ন কম্পার্টমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনে বিপুল পরিমাণ মালামাল মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লাগে। এতে ভবনের ওপরের তলাগুলোর গুদামে থাকা মালামাল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ভবনের ভেতরে প্রাথমিক কিছু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেখা গেলেও নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে বলে জানানো হয়েছে।
