বাঙালি মানেই চাকরি, ব্যবসা নয়? এই ধারণাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে এ বার দমদম পার্ক তরুণ সংঘের পুজোর ভাবনা ‘বেনিয়াকথা’। বাংলার প্রাচীন বাণিজ্য, মঙ্গলকাব্য আর লোককথার মেলবন্ধনে মণ্ডপে উঠে আসবে ব্যবসার বিস্মৃত ইতিহাস। সপ্তগ্রাম, তাম্রলিপ্ত থেকে চাঁদ সওদাগরের কাহিনি—জলপথে বাংলার বাণিজ্যের নানা অধ্যায় পাবে শিল্পের ভাষা।
পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সায়ন্তন কাঞ্জিলালের কথায়, “বাঙালি এখন চাকরিতে মগ্ন। বাঙালি তার ব্যবসার ইতিহাস প্রায় ভুলে যেতে বসেছে। আমাদের প্যান্ডেলের বিভিন্ন প্রয়োগের মধ্য দিয়ে আমরা বাঙালির ব্যবসার ইতিহাস ফুটিয়ে তুলতে চাই।”
শুধু মণ্ডপসজ্জা নয়, সরাসরি উপস্থাপনা, মডেল এবং নানা শিল্পমাধ্যমেও তুলে ধরা হবে সেই ইতিহাস। হিউ এন সাংয়ের বই অবলম্বনেও থাকছে বিভিন্ন তথ্য। প্রতিমাতেও বিশেষ চমক। শিল্পী অনির্বাণ দাস তৈরি করছেন বাংলার অন্যতম প্রাচীন দুর্গামূর্তি চন্দ্রকেতুগড়ের মূর্তির আদলে প্রতিমা।
কী ভাবে যাবেন? দমদম স্টেশন বা বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশন থেকে অটোয় পৌঁছে যাওয়া যাবে মণ্ডপে। ১৩ অক্টোবর, তৃতীয়ার রাত ৯টা থেকে সর্বসাধারণের জন্য খুলবে মণ্ডপ। প্রতি বছরের মতো এ বছরেও বেলুড়মঠের মহারাজ এই পুজোর উদ্বোধন করবেন। বিধাননগর কমিশনারেটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০ হাজার দর্শক এসেছিলেন। এ বার আরও বেশি দর্শকের অপেক্ষায় তরুণ সংঘ।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।
