সংবাদ · সাধারণ
জাইমা ও তারেকের জন্য কাঁদলেন হাজারো প্রবীণ
২৪/১০/২০২৬

‘তারেক বাবার বেটি জাইমাক যেন আল্লাহ বহুদিন বাঁচে রাখে বাবা। হামরা গরিব মানুষ, ট্যাকার অভাবে চোখ কাটতে পাচ্চিনে। জাইমার অছিলায় আল্লাহ হামার চোখটা ভালো করে দিচ্ছে। আল্লাহ জাইমাক, তারেক বাবাক আর মীর শাহে আলমক ভালো থুক।’কথাগুলো বলতে বলতে আবেগে গলা ধরে আসে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামের প্রবীণ নারী লাভলী বেওয়ার। দীর্ঘদিন ধরে চোখের ছানিসহ মারাত্মক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি; কিন্তু চিকিৎসার খরচ জোগানোর সামর্থ্য ছিল না। অবশেষে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ছানি অপারেশনের সুযোগ পেয়ে আনন্দের অশ্রু গড়িয়ে পড়ে তার দুচোখ বেয়ে।শুধু লাভলী বেওয়া নন, একইভাবে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কান্নাজড়িত দোয়ায় মেতে ওঠেন সৈয়দপুর গ্রামের সাহেদা, নয়াপাড়া গ্রামের প্রবীণ কছিমদ্দিনসহ শিবগঞ্জের অন্তত দুই হাজার অসহায় ও দরিদ্র মানুষ। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা এসব মানুষের কাছে এই আয়োজন হয়ে ওঠে নতুন করে পৃথিবী দেখার নতুন আলো।ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে শনিবার (২৪ অক্টোবর) বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প ও ছানি অপারেশন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘মীর শাহে আলম ফাউন্ডেশন’-এর আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।দিনব্যাপী চলা এই চিকিৎসাসেবা কর্মসূচিতে প্রায় দুই হাজার মানুষ বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা নেন। তাদের মধ্যে চিহ্নিত অন্তত ৬০০ জন রোগীর ছানি অপারেশনের যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। আয়োজকেরা জানান, রবিবার (২৫ অক্টোবর) শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শিবগঞ্জ ও মোকামতলার ৬ শতাধিক মেধাবী ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেবেন প্রতিমন্ত্রী।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সেবায় আত্মনিবেদিত। বগুড়া-২ আসনসহ সারাদেশে সমানভাবে উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।এ সময় জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা পরকালের কথা বলে ভোট নিলেও ভোটের পর জনদুর্ভোগে সাধারণ মানুষের পাশে থাকে না। এ ছাড়া ধর্মকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহারের নানা অভিযোগ তোলেন তিনি। জনগণের উন্নয়ন ও আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই দল টানা দেশসেবার সুযোগ পাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী চার বছরের মধ্যে সারা দেশে চার কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।যাদের কাছে চোখের ছানি অপারেশনের সামান্য টাকা জোগাড় করাও স্বপ্নের মতো ছিল, লাভলী বেওয়ার মতো এমন সাধারণ মানুষের অশ্রুসিক্ত প্রতিক্রিয়া যেন বলে দিল–এই আয়োজন নিছক কোনো ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প নয়, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে আলো ফিরিয়ে আনার এক নীরব সংগ্রাম।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗