বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ধাপে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির দাবি, ২০২১ সালে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্ষমতার ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে এর কার্যকর বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক ই-বর্জ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে টিআইবি ও ডব্লিউইইই সোসাইটি বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’।
অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত ই-বর্জ্যের প্রকৃত পরিমাণ এবং এর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে ই-বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং এ খাতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতিটি জেলায় ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের অঙ্গীকার রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি ই-বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পুনর্ব্যবহারের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
দেশে সোলার সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্যের কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি থেকেও ই-বর্জ্যের চাপ বাড়তে পারে।
আলোচনা সভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, দেশের ৪১টি জেলায় প্রায় দেড় লাখ ইভিএম অকেজো ও নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব যন্ত্রের যথাযথ ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ নিষ্পত্তি কিংবা পুনর্ব্যবহারের জন্য কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
