প্রিয় মানুষের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তার স্মৃতি থেকে বেরিয়ে আসা অনেকের জন্য দীর্ঘ ও কষ্টকর অভিজ্ঞতা। কেউ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, আবার কারো মনে বছরের পর বছর থেকে যায় পুরোনো সম্পর্কের টান। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, সাবেক সঙ্গীর প্রতি আবেগের টান অর্ধেক কমতে প্রায় সোয়া চার বছর এবং তা প্রায় পুরোপুরি কাটতে আট বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে এই সময় সবার ক্ষেত্রে এক নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এ গবেষণা মনোবিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সামাজিক মনোবিজ্ঞান ও ব্যক্তিত্ববিজ্ঞান’-এ প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যারা বেশি দুশ্চিন্তাপ্রবণ কিংবা আবেগগতভাবে সংবেদনশীল, তাদের বিচ্ছেদের কষ্ট কাটিয়ে উঠতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, সন্তান রয়েছে এমন সাবেক দম্পতিদের ক্ষেত্রে শুরুতে আবেগের টান বেশি থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে সেই টান কমে আসতে পারে।
স্মৃতি সহজে মুছে যায় না কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে মস্তিষ্কে আনন্দ ও ঘনিষ্ঠতার অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন রাসায়নিকের কার্যক্রম বাড়ে। বিচ্ছেদের পর সেই পরিচিত সম্পর্ক ও অভ্যাস হারিয়ে গেলে তৈরি হতে পারে শূন্যতা, অস্থিরতা ও মানসিক চাপ। স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষেত্রেও মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের ভূমিকা রয়েছে। হিপোক্যাম্পাস নতুন স্মৃতি গঠন ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, অ্যামিগডালা আবেগের সঙ্গে যুক্ত স্মৃতি প্রক্রিয়াকরণে ভূমিকা রাখে। এ কারণে সম্পর্কের খুঁটিনাটি ভুলে গেলেও একসঙ্গে কাটানো আনন্দের মুহূর্ত বা কষ্টের স্মৃতি দীর্ঘদিন মনে থাকতে পারে।
যোগাযোগ কি বাড়ায় বিচ্ছেদের কষ্ট? বিচ্ছেদের পরও সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকা- অনুসরণ করা পুরোনো আবেগকে উসকে দিতে পারে। ফলে মানসিকভাবে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এ পরিস্থিতি সামলাতে নিজের জন্য সময় নেওয়া, পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতি উসকে দেয় এমন বিষয় থেকে সাময়িক দূরত্ব রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা, নতুন অভ্যাস গড়ে তোলা এবং বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো সহায়ক হতে পারে। তবে বিচ্ছেদের কষ্ট কাটানোর নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। আট বছরের হিসাবকে সবার জন্য প্রযোজ্য নিয়ম হিসেবেও দেখা উচিত নয়। দীর্ঘদিন মানসিক কষ্ট চলতে থাকলে এবং তা দৈনন্দিন জীবন, কাজ কিংবা ঘুমে প্রভাব ফেললে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। বিচ্ছেদের স্মৃতি এক দিনে মুছে যায় না। তবে সময়, প্রয়োজনীয় দূরত্ব এবং নিজের যতœ নেওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেই কষ্টের তীব্রতা কমতে পারে।
