তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গান্ধী পরিবারের পরিচয়। সেই কারণেই ‘শাস্তি’ পেলেন রায়হান বঢরা? জানা গিয়েছে, পেশায় ফটোগ্রাফার রায়হানের ছবি প্রদর্শনীর মাত্র কয়েকঘণ্টা আগে তাঁর ৭০টি ছবি আচমকা সরিয়ে দেওয়া হয়। তারমধ্যে ছিল জাতীয় পতাকার ছবিও। আয়োজকদের তরফে দাবি, ওই ছবিগুলো আপত্তিকর। রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে ছবিতে। গোটা ঘটনার রায়হানের মা তথা কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সুর চড়িয়েছেন। প্রতিক্রিয়া মিলেছে হাত শিবিরের তরফেও।
ফটোগ্রাফার হিসাবে রায়হানের যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। বুধবার বিকেলে দিল্লি বিকানের হাউসে তাঁর ছবির একক প্রদর্শনী হওয়ার কথা ছিল। সেখানে শতাধিক ছবি রেখেছিলেন রায়হান। কিন্তু প্রদর্শনী শুরুর কয়েকঘণ্টা আগে আয়োজকরা তাঁকে জানান, কিছু ছবি সরিয়ে ফেলতে হবে কারণ সেগুলি আপত্তিকর। রায়হান জানাচ্ছেন, এই ছবিগুলি মূলত ছাত্রদের প্রতিবাদের। এমনকী জাতীয় পতাকার ছবিও সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে তাঁকে। যদিও রায়হান বেঁকে বসায় তেরঙ্গার ছবি সরানো হয়নি। কিন্তু প্রায় ৭০টি ছবি সরিয়ে নেওয়া হয় শেষ মুহূর্তে। মাত্র ৪০টি ছবি দেখানো হয়েছে প্রদর্শনীতে।
‘নো আইডিয়া ইজ ফাইনাল’ নামে ওই প্রদর্শনীর আয়োজকদের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রায়হানের কথায়, তাঁকে সাফ জানানো হয়েছে যে ছবিগুলি আপত্তিকর। বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ওই ছবি দেখানো উচিত নয়। ওই ছবিগুলি সরিয়ে না ফেললে গোটা প্রদর্শনী বাতিল করে দেওয়া হবে বলেও জানান আয়োজকরা। যদিও রায়হান স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর ছবিতে কোনও রাজনৈতিক বার্তা ছিল না। শিল্পী হিসাবে তিনি সেটাই লেন্সবন্দি করেছেন যেটা আশেপাশে ঘটছে।
ছেলের তিনবছরের পরিশ্রমের এহেন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না প্রিয়াঙ্কা। খোলা চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘ক্ষমতাসীন কেউ যদি অন্যের মত দেখে ভয় পায় তাহলে সে ওই ক্ষমতাটাই হারিয়ে ফেলেছে যেটা রক্ষা করতে এত প্রাণপণ চেষ্টা। যেটা সত্য, তুমি সেটা ধরে থাক। তাতেই সবকিছু সুন্দর হবে। তোমার জন্য আমি গর্বিত।’ কংগ্রেস নেতা পবন খেরার কথায়, যখন জাতীয় পতাকার উপরেও কাঁচি চলছে তখন বুঝতে হবে সমস্যাটা শিল্পীর নয় শাসকের।
