ঢাকার আশুলিয়া থেকে অপহৃত দুই বছর বয়সী শিশু মীম আক্তারকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থেকে জীবিত উদ্ধার করেছে এসআরবি। এ ঘটনায় অপহরণের অভিযোগে মোছাঃ বেলী বেগম (৩৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানাধীন খালপাকুটিয়া দেওলাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১৪-এর যৌথ দল তাকে গ্রেপ্তার এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে।
এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থানার পলাশবাড়ী বটতলা এলাকার একটি বাসা থেকে শিশু মীম আক্তার নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা রাবেয়া আক্তার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত। কর্মস্থলে যাওয়ার সময় মেয়েকে দেখাশোনার জন্য গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে বেলী বেগমকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ঘটনার দিন দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে শিশুটিকে বেলীর কাছে রেখে তার মা-বাবা কর্মস্থলে যান। রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরে তারা শিশু ও গৃহকর্মী কাউকেই পাননি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান না পেয়ে তার মা থানায় মামলা করেন।
ঘটনার পরপরই এসআরবি-৪-এর একটি আভিযানিক দল শিশুটিকে উদ্ধার ও নিখোঁজের রহস্য উদ্ঘাটনে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, বেলী বেগম গত ১ সেপ্টেম্বর শিশুটির পরিবারের বাসার কাছাকাছি একটি বাসা ভাড়া নেন। পরে ৮ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে নিয়ে ওই এলাকা থেকে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাড়িওয়ালা ও স্থানীয়দের কাছ থেকে তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে তার বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশের সূত্র ধরে টাঙ্গাইলের একটি ঠিকানা পাওয়া গেলেও সেখানে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সময়ে গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় বেলী বেগমের তৃতীয় স্বামীর বর্তমান ঠিকানা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে ঘাটাইলের খালপাকুটিয়া দেওলাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত নারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহৃত শিশু মীমকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে এসআরবি-৪।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত বেলী বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
