ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী বাজারে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শাখায় ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগে কাউসার আহম্মেদ (২৪) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। তাকে ঋণ না দেওয়ায় এ কাণ্ড ঘটান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত সোয়া ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ভেতরের স্ট্রং রুমের তালা ভেঙে ব্যাংক লুটের চেষ্টা করেন কাউসার। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
কাউসার আহম্মেদ সোহাগী ইউনিয়নের বৃ-কাঁঠালিয়া গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় ব্যাংকটির সোহাগী বাজার শাখার কর্মকর্তা নাজমুল হক বাদী হয়ে কাউসার আহম্মেদের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ জানায়, কাউসারকে গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি হাতুড়ি, একটি চাকু, একটি বাটাল, দুটি স্ক্রু-ড্রাইভার ও একটি হেক্সো ব্লেড জব্দ করা হয়েছে।
ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী মাজহারুল ইসলাম (২২) বলেন, বুধবার রাতে ব্যাংকের সব গেট বন্ধ করে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় মূল ফটক ভেঙে কাউসার ভেতরে ঢুকে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। পরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মেরে গলায় চাকু ধরে রশি দিয়ে তার হাত-পা বাঁধেন এবং গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে আটকে রাখেন। এরপর স্ট্রং রুমের দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন।
মাজহারুল জানান, একপর্যায়ে তিনি বাঁধন খুলে ব্যাংক থেকে দৌড়ে বের হয়ে চিৎকার শুরু করেন। এ সময় বাজারের নৈশপ্রহরী ও স্থানীয় লোকজন এসে কাউসারকে আটক করে পুলিশে দেন।
কৃষি ব্যাংকের সোহাগী বাজার শাখার ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল হাসান জানান, ঘটনার সময় নিরাপত্তাকর্মী মাজহারুলের হাত-পা ও মুখ বেঁধে আটকে রেখে ব্যাংক লুটের চেষ্টা করা হয়। কাউসার তাদের কাছে ঋণ নিতে আসার বিষয়টি সঠিক নয়। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় একটি ব্যাংকে এমন ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, কাউসার পুলিশকে জানিয়েছেন, ব্যাংক থেকে ঋণ না দেওয়ায় তিনি এমন পরিকল্পনা করেন। এ ঘটনায় দস্যুতা আইনে কাউসারসহ অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে ওই ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমানকে গৌরীপুরের ভবানীপুর এলাকায় পথরোধ করে সোহাগীর বৃ-কাঁঠালিয়া গ্রামের অন্য এক যুবক ব্যাংকের ভল্টের চাবি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। ঋণ না দেওয়ার অজুহাতে এ ঘটনা ঘটেছিল।