বিদ্যালয়ে দেরিতে উপস্থিত হওয়ার কারণ জানতে চাওয়ায় প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নাগেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটে। এ অনভিপ্রেত ঘটনার জেরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে পাঠদান কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মুকুল হোসেন জানান, ঘটনার দিন সকালে বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা চলছিল। তিনি সকাল আটটার দিকে প্রতিষ্ঠানে এসে দাপ্তরিক নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সাড়ে নয়টার দিকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এসে বেঞ্চ ভাঙা ও বসার অনুপযোগী থাকার বিষয়টি জানালে তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফরিদুল ইসলামকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করেন। কিন্তু ফরিদুল কোনো সাড়া না দিয়ে বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে আসেন। পরে দেরিতে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রধান শিক্ষকের ওপর চড়াও হন এবং একপর্যায়ে অতর্কিত হামলা চালান। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার পর এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান এই প্রবীণ শিক্ষক।
এদিকে অভিযুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফরিদুল ইসলাম নিজের দায় স্বীকার করে জানান, সকালে তার বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষক বকাঝকা করায় তিনি প্রতিবাদ জানান এবং উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির সূত্রপাত হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় অভিভাবক সোহেল খান জানান, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলার সময় ফরিদুল সেখানে এসে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষককে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রাকিবুল হাসান খান দিপু এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং অভিযুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, নাগেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার বিষয়টি তাদের জানা রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
