যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এর প্রভাবে বুধবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো দরপতনের ফলে মূল্যবান ধাতুটির দাম ৭ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৯টা ৩ মিনিটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের তাৎক্ষণিক দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৬ দশমিক ০৬ ডলারে। ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের আগাম চুক্তির দামও ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০৮ দশমিক ৬০ ডলারে নেমে আসে।
স্বর্ণের দামের পতনে ভূমিকা রেখেছে মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও সরকারি বন্ডের মুনাফা বেড়ে যাওয়া। বুধবার ডলার সূচক ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এতে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের মুনাফাও বেড়েছে।
হাই রিজ ফিউচার্সের ধাতু লেনদেন বিভাগের পরিচালক ডেভিড মেগার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি এসেছে এবং তা এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বেড়েছে। ফলে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি স্বর্ণের বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক গত মাসে ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে এই বৃদ্ধির হার ছিল ০ দশমিক ৪ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাজারে ছিল প্রায় ২২ শতাংশ। তথ্য প্রকাশের পর তা বেড়ে প্রায় ৪৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ডিসেম্বর মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৯৫ শতাংশ বলে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের ফেডওয়াচ সূচকে এসব পূর্বাভাস উঠে এসেছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে স্বর্ণ থেকে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদের তুলনায় স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি বিভাগের ভাইস চেয়ার মিশেল বোম্যান বলেছেন, সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর পর আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আর্থিক বাজার ও অর্থনীতির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে রয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির সদর দপ্তরে হামলার পর বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। রয়টার্সকে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেলের দাম উঁচু রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলার লক্ষ্যে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার নতুন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের দাম নিয়ে আশাবাদী বিশ্লেষকদের একাংশ। জুলিয়াস বেয়ারের বিশ্লেষক কার্স্টেন মেনকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক স্বর্ণ কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ও ক্রমবর্ধমান সুদ পরিশোধের ব্যয় নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের দাম আবারও সমর্থন পেতে পারে।
বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। বুধবার প্রতি আউন্স রুপার তাৎক্ষণিক দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৫৬ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬২৯ দশমিক ৭৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১১৮ দশমিক ৪৬ ডলারে নেমে এসেছে।
/অ
