Published on
:
2 min read
এই সময়: বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম দুর্গাপুজো। তাই গোটা রাজ্যে রেকর্ড সংখ্যক বইয়ের স্টল দিয়ে নজির গড়তে চাইছে পদ্ম–ব্রিগেড। গোটা রাজ্যে দেড় হাজার স্টল দেওয়ার টার্গেট নিয়েছে তারা। দলের এক বর্ষীয়ান নেতার কথায়, ‘সব জেলা থেকে রিপোর্ট না এলেও রাজ্যে এ বার হাজারের বেশি বইয়ের স্টল বসেছে আমাদের।’
প্রতি বছর–ই নামী পুজো মণ্ডপগুলির বাইরে বইয়ের স্টল দেওয়ার চেষ্টা করে বিজেপি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের সেই ইচ্ছে পূরণ হতো না। অভিযোগ, তৎকালীন শাসক দলের চাপে প্রশাসন বহু জায়গায় বিজেপিকে বইয়ের স্টল দেওয়ার অনুমতি দিত না। এ বছর পরিস্থিতি ভিন্ন। পুলিশ–প্রশাসনের বাধা নেই। তাই বিজেপিও যত বেশি সম্ভব বইয়ের স্টল দিয়েছে রাজ্য জুড়ে। শুধু উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলাতেই পঞ্চাশের উপর বইয়ের স্টল দিয়েছে গেরুয়া শিবির। দলের জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যা খবর উত্তর কলকাতা লোকসভা এলাকায় আমাদের পঞ্চাশটির মতো বুকস্টল চালু হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ ভয়মুক্ত পরিবেশে সেখান থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দীনদয়াল উপাধ্যায়ের লেখা নানা বই কিনছেন। আমাদের স্টলগুলিতে বাঙালি মনীষীদের বায়োগ্রাফিরও খুব চাহিদা।’
তবে এ বার পুজোয় স্টলসংখ্যার নিরিখে উত্তরকে টেক্কা দিয়েছে দক্ষিণ। বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যর দাবি, তাঁর জেলায় ছোট–বড় সব মিলিয়ে সত্তরের কাছাকাছি বইয়ের স্টল বসছে। তাঁর কথায়, ‘ষষ্ঠীতে আমি নিজেই বেশ কয়েকটি বুকস্টল উদ্বোধন করব। বিজেপির রাজনৈতিক মতাদর্শ, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সাধারণ মানুষের উৎসাহ অনেক বেড়েছে। যারা এতদিন বিজেপি সম্পর্কে অনীহা প্রকাশ করতেন, তাঁরাও এখন বিজেপি সম্পর্কে জানতে চাইছেন। আমরাও সবাইকে অনুরোধ করছি, স্টলে আসুন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দীনদয়াল উপাধ্যায়ের বই হাতে নিয়ে নেড়েচড়ে দেখুন।’
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একটানা ২৫ বছর কাজ করে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি এই বিষয়টিকে দেশজুড়ে ধুমধাম করে উদযাপন করেছে বিজেপি। এই সমকালে মোদী কী কী কাজ করেছেন, এবং কী ভাবে করেছেন, তার উপর একাধিক বইও প্রকাশিত হয়েছে। সেই বইগুলিও রাখা থাকছে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপের বাইরে বিজেপির বইয়ের স্টলগুলিতে। দলের রাজ্য কমিটির এক সদস্যের কথায়, ‘নরেন্দ্র মোদী দেশের সফলতম প্রধানমন্ত্রী। কী ভাবে তিনি এই জায়গায় পৌঁছলেন তা জানতে আমাদের বইয়ের স্টলগুলিতে ভিড় বাড়ছে।’
