ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজুল আলম শাহীন (৩০) কে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২৭ জনের নামসহ অজ্ঞাত ২৫/৩০ জন নারী পুরুষকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে সোহাগী ইউনিয়নের বৈরাটি গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে ওয়াসিম মিয়া (২৬) ও সরিষা ইউনিয়নের গাংপাড়া গ্রামের মৃত সাহেদ আলীর ছেলে এমদাদুল হক (৪৫) কে গ্রেপ্তার করে।
জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সরিষা ইউনিয়নের ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পুলিশ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল আলমকে শাহীনকে সেখান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়।
আসামী ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় শনিবার বিকেলে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন জানান, শাহীনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে আটক করার সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ফয়সল আহমেদ/এসএন
আরও পড়ুন
কক্সবাজারে অপ্রাপ্তবয়স্কদের রুম দিলেই ব্যবস্থা: শামীম আরা স্বপ্না
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না। ছবি: খবরের কাগজ
-->কক্সবাজারে নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করতে হোটেলগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছাড়া প্রেমিকের সঙ্গে থাকার জন্য কক্ষ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিক ও ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না।
একই সঙ্গে পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তি রক্ষায় নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবিলা করে কক্সবাজারের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তারা এসব কথা বলেন।
কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর শামীম আরা স্বপ্না বলেন, কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা প্রেমিকের সঙ্গে এসে অবস্থান করছে বলে দেখা যাচ্ছে। তাদের বয়স কম, একা হোটেলে থাকার উপযুক্ত বয়স হয়নি। এরপরও এনআইডি ছাড়া তাদের কক্ষ দেওয়া আইনত বড় অপরাধ। এর ফলে বিভিন্ন অঘটন ঘটছে, পথে-ঘাটে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, কেউ আত্মহত্যা করছে।
কক্সবাজারকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি কক্সবাজারে হতে দেওয়া যায় না। মেয়েরা মা-বাবার সঙ্গে এলে হোটেলে থাকতে পারবে। কিন্তু প্রেমিকের সঙ্গে এলে এনআইডি ছাড়া তাদের থাকার অনুমতি দেওয়া যাবে না। এরপরও এমন ঘটনা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিক ও ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সভায় আলোচনায় আসে। ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী হত্যার শিকার হওয়ার আগে কক্সবাজারে তার কথিত প্রেমিক রাজুর সঙ্গে একটি হোটেলে অবস্থান করেছিল। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় তার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স লেখা হয়েছিল ১৮ বছর।
সভায় বিষয়টি তুলে ধরে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান পর্যটন শিল্পের স্বার্থে ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় কক্সবাজারকে জড়ানো হয়েছে। একটি গোষ্ঠী চায়, মানুষ কক্সবাজারে না এসে অন্য জায়গায় যাক। পর্যটন শিল্পের স্বার্থে এসব অপতৎপরতা রুখতে হবে এবং নেতিবাচক প্রচারণা যাতে না ছড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরির শহিদ সুভাষ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতারা বক্তব্য দেন।
সম্প্রতি কক্সবাজারে পর্যটকদের প্রাণহানির একাধিক ঘটনায় নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত ১৭ অক্টোবর মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটক মারা যান। এ ছাড়া ২১ অক্টোবর হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে পাঁচ পর্যটকের মৃত্যু হয়। চলমান পর্যটন মৌসুমে ঝুঁকি কমানো ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে পর্যটন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রশাসনের এ মতবিনিময়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তারেকুর রহমান/রিফাত/
আরও পড়ুন
ফেনীতে নিখোঁজের ৩ দিন পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁতী দল নেতা উদ্ধার
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ফেনীতে নিখোঁজের তিন দিন পর হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় সোনাগাজী উপজেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সদস্যসচিব মো. আবদুল্লাহ আল আমিনকে (৩০) উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের হাফেজিয়া ভাঙার তাকিয়া এলাকার একটি ঝোপ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ওই এলাকার একটি ঝোপ থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আল আমিনকে উদ্ধার করে। এ সময় তার শরীর ও হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল।
এর আগে আল আমিনের নিখোঁজের ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে সোনাগাজী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার চাচি কামরুন নাহার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনাগাজীর উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন আল আমিন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। ওই দিন রাত ১০টার দিকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।
আল আমিন সোনাগাজী উপজেলার উত্তর মঙ্গলকান্দি এলাকার বাসিন্দা।
আল আমিনের চাচা আবদুল হক নোমান বলেন, ‘আল আমিনকে পাওয়া গেছে বলে পুলিশ আমাদের খবর দেয়। পরে তাকে জরুরিভাবে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তিনি কথা বলতে পারছেন না। সুস্থ হওয়ার পর কারা এবং কেন তার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানা যেতে পারে।’
পরিবারের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আল আমিনের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মামলায় তার আট বছরের কারাদণ্ড হয়। ওই সময় তার স্ত্রী এক সন্তানকে নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যান।
উপজেলা তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হক নোমান বলেন, আল আমীনকে নিখোঁজের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সোনাগাজী সার্কেল) সৈয়ম মুমিদ রায়হান নিখোঁজ আল আমিনকে হাত-পা বাধা অবস্থায় পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে।
তোফায়েল আহাম্মদ/রিফাত/
আরও পড়ুন
ঠাকুরগাঁওকে বাঁচাতে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে হবে: গোলাম পরওয়ার
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ঠাকুরগাঁওকে বাঁচাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্রঋণ এবং ইমাম-খতিবদের ভাতা ও বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে এ অঞ্চলকে শূন্য করে ফেলা হবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের উদ্যোগে জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও দলীয়করণ করা হয়েছে। দলের লোকজনকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির দিন ফুরিয়ে আসছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাতে হবে। চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আগামী ২৯ তারিখ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানাচ্ছি।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে বিএনপি মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। এ সময় বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি দলটির বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ তোলেন।
নির্বাচনে কোনো ধরনের টালবাহানা বা কারচুপি করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনিসহ জামায়াতের বিভিন্ন নেতারা।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোটে কারচুপি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা করা হলে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘেরাও করা হবে। প্রয়োজনে এই আসনকে কেন্দ্র করে সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম।
এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন- ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে জনসভাটি সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমগীর। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকার উদ্যোগে এ জনসভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিধান চন্দ্র/নাঈম
আরও পড়ুন
মাগুরায় যুবদল নেতা হত্যার বিচার ও গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করছেন বিক্ষোভকারীরা। ছবি: খবরের কাগজ
-->মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে মাগুরা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পারনান্দুয়ালী গ্রাম থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে চৌরঙ্গী মোড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন তারা। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, অস্ত্র উদ্ধার ও জড়িতদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তবে এ ঘটনায় এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।’ একই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
পরে শহরের ঢাকা রোডের পারনান্দুয়ালী এলাকায় মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে জেলা পুলিশের অনুরোধে অবরোধ তুলে নেন তারা।
উল্লেখ্য গত বুধবার ভোররাতে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শাকের হোসেন (৩৯)। তিনি মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় রনি শিকদার (৩৮) ও শামীমা তাবাসসুম (৩১) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে রনি শিকদার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালতে পুলিশের দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গ্রেপ্তার দুজনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাদের ভূমিকা নিয়ে আরও তদন্ত প্রয়োজন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, অন্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধারে তদন্ত চলছে।
কাসেমুর রহমান/আজহার/
