ঝালকাঠির রাজাপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারের দায়ে দুই জেলেকে ৩০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অপর দিকে নড়াইলের কালিয়ায় প্রায় ছয় হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ। এ সময় উদ্ধার করা মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
রাজাপুরে সুগন্ধা ও বিষখালী নদী থেকে ১০ হাজার ৫৫০ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৪৮ হাজার ৭৫০ টাকা। এ ছাড়া পাঁচ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করে এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরী তাঁর কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন নলছিটি উপজেলার ভবানীপুর এলাকার মো. মান্নানের ছেলে মো. সুমন (৫৫) এবং মো. হানিফ মিয়ার ছেলে মো. রাজিব হোসেন (৪৫)।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, আজ দুপুরে বিষখালী নদীর ভবানীপুর এলাকা থেকে দুই জেলেকে আটক করা হয়। পরে তাদের উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যায় ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুজনকে ৩০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।
ইউএনও বলেন, ‘মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ কাজ করছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কালিয়া উপজেলার নবগঙ্গা নদীর বিভিন্ন এলাকায় মা ইলিশ সংরক্ষণে উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে সহযোগিতা করেন বড়দিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
এ সময় নবগঙ্গা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে আটটি অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জালগুলোর মোট দৈর্ঘ্য আনুমানিক ছয় হাজার মিটার।
অভিযান শেষে নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিন্নাতুল ইসলাম ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা চয়ন বিশ্বাসের উপস্থিতিতে জব্দ করা জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযানে উদ্ধার করা মাছ স্থানীয় এতিমখানার শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার শুধু মা ইলিশের জন্যই নয়, নদীর অন্যান্য প্রজাতির মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ক্ষতিকর। মা ইলিশ রক্ষায় মৎস্য বিভাগের এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম সফল করতে জেলেসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
