আচমকা দাঁতে ব্যথা। এমনই যন্ত্রণা হচ্ছে যে রাতে ঘুমোতেই পারছেন না হয়তো। এমন পরিস্থিতিতে ঘরোয়া কয়েকটি টোটকা প্রাথমিক স্বস্তি দিতে বা ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে। জানা থাকলে বিপদের দিনে সাহায্য পেতে পারেন। কারণ দাঁতের ব্যথার মতো অস্বস্তিকর ও কষ্টদায়ক অনুভূতি যদি হঠাৎ মধ্যরাতে শুরু হয়, যখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না, তখন কাজে দিতে পারে ওই টোটকাই।
১. হালকা গরম নুন জলে কুলকুচি: দাঁতের যেকোনও সংক্রমণ বা ব্যথায় এটি সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ প্রাথমিক চিকিৎসা। এক গ্লাস হালকা গরম জলে আধা চা-চামচ নুন মিশিয়ে মিনিটখানেক মুখে নিয়ে কুলকুচি করতে হবে। নুন জল প্রাকৃতিকভাবে জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে এবং মাড়ির ফোলা ভাব কমাতেও সাহায্য করে।
২. লবঙ্গ বা লবঙ্গের তেল: লবঙ্গে রয়েছে ‘ইউজিনল’ নামের উপাদান, যা স্নায়ু অবশ করে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করতে কার্যকরী। তাছাড়া লবঙ্গ ব্যাকটেরিয়ারোধী হিসেবেও কাজ করে। ব্যথার জায়গায় একটি লবঙ্গ হালকা চিবিয়ে রেখে দেওয়া যেতে পারে, অথবা তুলোয় সামান্য লবঙ্গের তেল মেখে ব্যথার দাঁতের গোড়ায় চেপে ধরে রাখলে দ্রুত ব্যথা উপশম হয়।
৩. আইস প্যাক বা বরফ সেঁক: মুখের যে পাশে ব্যথা হচ্ছে, সেই গালে বা চোয়ালে তোয়ালেতে বরফ পেঁচিয়ে ১০-১৫ মিনিট ধরে রাখুন। ঠান্ডা তাপমাত্রার কারণে রক্তনালী সংকুচিত হয়, যা ব্যথার অনুভূতি কমায় এবং ফোলা ভাব দূর করতে সাহায্য করে।
৪. রসুন: রসুনে থাকা ‘অ্যালিসিন’ নামের যৌগ একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এক কোয়া রসুন সামান্য থেঁতো করে তাতে সামান্য নুন মিশিয়ে ব্যথার দাঁতের ওপর লাগিয়ে রাখলে মাড়ির জীবাণু ধ্বংস হয় এবং ব্যথার তীব্রতা কমে।
৫. পেয়ারা পাতা বা পুদিনা পাতা: টাটকা পেয়ারা পাতা পরিষ্কার করে ধুয়ে মুখে নিয়ে ধীরে ধীরে চিবোলে সেই রস মাড়ির প্রদাহ ও ব্যথা কমায়। একইভাবে, পুদিনা পাতার রস বা হালকা গরম পুদিনা চা-ও দাঁতের যন্ত্রণা প্রশমনে কার্যকরী।
তবে মনে রাখতে হবে, ওই ঘরোয়া উপায়গুলো কেবল সাময়িক আরামের জন্য। এটি স্থায়ী কোনও সমাধান নয়। দাঁতের ব্যথার কারণ মূলত ক্যাভিটি, সংক্রমণ বা মাড়ির রোগ। যা নির্ণয় করে স্থায়ী চিকিৎসার জন্য দ্রুত অভিজ্ঞ দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
