এক প্রজন্মের ব্যবধানেই বদলে গেছে প্রেম ও সম্পর্কের ধরন। সম্পর্কের অর্থ কী, সম্পর্কে তিনি অন্য মানুষটির কাছে আদতে কী চান—এসব প্রশ্নের উত্তর শুরুতেই জেনে নিতে চান তাঁরা। সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকলে অনেকে সরে আসতেও দ্বিধা করেন না। পুরোনো ডেটিং অভ্যাসের অনেক কিছুকেই জেন–জি বাতিল ঘোষণা করে দিয়েছে। আর সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা এসব লক্ষণকে দেখছেন ইতিবাচক হিসেবে। জেনে নেওয়া যাক কী সেসব।
১. ইচ্ছা করে দেরিতে উত্তর দেওয়া
কাউকে পছন্দ করলেও ইচ্ছা করে কয়েক ঘণ্টা পর মেসেজের উত্তর দেওয়া, নিজের আগ্রহ লুকিয়ে রাখা কিংবা সব সময় অন্যজনের উদ্যোগের অপেক্ষায় থাকা—একসময় ডেটিংয়ের পরিচিত কৌশল ছিল এসব।
ধারণা ছিল, বেশি আগ্রহ দেখালে হয়তো নিজেকে সহজলভ্য বা মরিয়া মনে হবে। কিন্তু জেন–জি স্পষ্টভাবে আগ্রহ প্রকাশ করাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। তাড়াতাড়ি ‘সিন করা’ আর উত্তর দেওয়াকে ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ হিসেবে ধরে নেয়।
২. মাসের পর মাস কেবল কথা বলে যাওয়া
মেসেজ চালাচালি হচ্ছে, নিয়মিত রিল আদান-প্রদান চলছে, কথাবার্তাও বেশ জমে উঠেছে; কিন্তু সম্পর্কটি আদতে কোন দিকে যাচ্ছে, তা জানা যাচ্ছে না।
ডেটিংয়ে সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস চলতে থাকা এই অনিশ্চিত কথোপকথন পর্যায়কে বলা হয় ‘টকিং স্টেজ’। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের বেশি টকিং স্টেজে থাকতে আগ্রহী নন জেন–জির অনেকেই।
অন্যজন কী চান, সম্পর্কটি কোথায় এগোচ্ছে—সরাসরি এসব প্রশ্ন করাটাকেই ট্রেন্ডে নিয়ে এসেছেন তাঁরা। প্রশ্নটি করতে কিছুটা অস্বস্তি হতে পারে। কিন্তু উত্তর জানা থাকলে মাসের পর মাস ‘গেসিং গেম’ খেলে অনিশ্চয়তায় কাটাতে হয় না।
৩. ঈর্ষাকে ভালোবাসার প্রমাণ মনে করা
প্রেমের সম্পর্কে সামান্য ঈর্ষাকে একসময় রোমান্টিক হিসেবে দেখা হতো। সঙ্গী কার সঙ্গে কথা বলছেন, কোথায় যাচ্ছেন কিংবা কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন—এসব নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ দেখালেও অনেকে ভাবতেন, এর অর্থ ‘মানুষটি তাঁকে খুব ভালোবাসেন’।
কিন্তু এখন এই ধারণাকে প্রশ্ন করছেন তরুণদের অনেকে। কারও প্রতি যত্নশীল হওয়া আর তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া, নজরদারিতে রাখা এক বিষয় নয়।
সঙ্গীর ফোন চেক করা, তিনি কার সঙ্গে মিশবেন, তা ঠিক করে দেওয়া কিংবা নিজের মতো সময় কাটানোর জন্য তাঁকে অপরাধবোধে ভোগানো—এসব আচরণকে জেন–জি অপর পক্ষের অনিশ্চয়তা ও আত্মবিশ্বাসহীনতা হিসেবেই দেখে।
জেন–জি সম্পর্কে নজরদারি বা খবরদারির চেয়ে পারস্পরিক বিশ্বাস, সহজভাবে একে অন্যকে গ্রহণ করা আর স্বাধীনতাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।

৪. ডেটে বিল দেবে পুরুষ
প্রথম ডেটে পুরুষকেই বিল দিতে হবে বা পুরুষই প্রথম ডেটে আমন্ত্রণ জানাবে—এমন ধারণা প্রচলিত ছিল। জেন-জির কাছে বিষয়টি লিঙ্গভিত্তিক প্রত্যাশা বা ভালোবাসার পরীক্ষা নয়; বরং সহজ–স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যাপার। যে কেউ-ই অপর পক্ষকে প্রথম ডেটে ডাকতে পারেন। আবার যে কেউ-ই বিল দিতে পারেন।
৫. একসঙ্গে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন বলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা
সম্পর্কটি তিন বছরের কিংবা পরিবার-বন্ধুরা ধরে নিয়েছেন দুজনের বিয়ে হবে—এসব কারণে অনেকের মধ্যে অসুখী, বিষাক্ত সম্পর্কে থেকে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু জেন–জির অনেকেই এই ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
কোনো সম্পর্ক দীর্ঘদিনের হলেই যে তা ভালো বা সুস্থ সম্পর্ক হবে, এমন কোনো কথা নেই। অতীতের সময়, একসঙ্গে কাটানো স্মৃতি, অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া কিংবা অন্যদের প্রত্যাশা—কোনোটিই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট কারণ হতে পারে না।
সূত্র: এমএসএন
