চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের উত্তর কিন্তু পুরোপুরি ইতিবাচক। থানের কেআইএমএস (KIMS) হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ আমরীন শেখ জানান, বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরিকল্পনা করা হলে একটি সম্পূর্ণ নিরামিষ ডায়েটও পেশাদার ক্রীড়াবিদদের সমস্ত পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সক্ষম। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘প্লেটে মাংস আছে কি নেই—তা দিয়ে ফিটনেস বিচার হয় না। মূল বিষয় হলো খাবারটি কতটা সুষম এবং তা একজন খেলোয়াড়ের ট্রেনিং, ম্যাচ এবং রিকভারির চাহিদার সঙ্গে কতটা মানানসই। সঠিক মাপ ও মেলবন্ধন বজায় রাখলে চিরাচরিত ভারতীয় নিরামিষ খাবারই যথেষ্ট শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।’
নিরামিষাশীদের প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ প্রসঙ্গে পুষ্টিবিদ জানান, কোনও একটি নির্দিষ্ট উপাদানের ওপর নির্ভর না করে সারাদিনের বিভিন্ন মিলে প্রোটিন ছড়িয়ে দেওয়া দরকার। মুসুরি ডাল, কলাই, বিনস, সয়াবিন, টোফু, পনির, দুধ, দই, বাদাম এবং বিভিন্ন পুষ্টিকর বীজ থেকে শরীর পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করতে পারে। তবে যাঁরা উদ্ভিজ্জ খাবারের ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের ভিটামিন বি১২, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি-এর মাত্রার দিকে নিয়মিত নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডায়েটিশিয়ান আমরিন শেখ সতর্ক করেছেন যে, ‘নিরামিষ’ মানেই তা স্বাস্থ্যকর নয়। মাত্রাতিরিক্ত তেলেভাজা খাবার, রিফাইন্ড ময়দা, অতিরিক্ত চিনি এবং প্যাকেটজাত নিরামিষ খাবার শরীরে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। তাই ফল, শাকসবজি ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে সাজানো তাজা প্রাকৃতিক খাবারই হলো সাফল্যের চাবিকাঠি। তবে একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের শারীরিক গঠন, বয়স ও ম্যাচ লোডের ওপর নির্ভর করে তৈরি ডায়েট চার্ট সবার জন্য অন্ধভাবে অনুসরণ না করে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
