শীতের শুরুতে অর্থসংকটের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় খাদ্যসহায়তা কমাতে বাধ্য হচ্ছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
গাজার ক্ষুধার্ত পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যসহায়তা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস করেছে ডব্লিউএফপি। এতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) এসব তথ্য জানিয়েছে ডব্লিউএফপি।
ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, গত তিন বছরে গাজার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পরিবারের জন্য খাদ্যসহায়তা জীবনরক্ষাকারী অবলম্বন হিসেবে কাজ করেছে।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। এরপর থেকে সংস্থাটির দলগুলো প্রতি মাসে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী, গমের আটা, রুটি, রান্না করা খাবার, পুষ্টিসহায়তা, স্কুলের নাশতা ও নগদ অর্থ পৌঁছে দিয়েছে। তবে অর্থের অভাবে চলতি মাসে গাজার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১১ লাখ মানুষকে সহায়তা দিচ্ছে ডব্লিউএফপি। সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ।
ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য বরাদ্দ অর্ধেক করা হয়েছে। এখন প্রতিটি পরিবার দুটি খাদ্য প্যাকেটের পরিবর্তে একটি প্যাকেট পাবে। গমের আটার পরিমাণও কমানো হয়েছে।
এ ছাড়া ৭৫ হাজার পরিবারের জন্য নগদ সহায়তার পরিমাণ কমানো হয়েছে। গাজাজুড়ে প্রতিদিন রান্না করা খাবার বিতরণের সংখ্যাও আড়াই লাখ থেকে কমিয়ে দেড় লাখে নামানো হবে।
সংস্থাটি বলেছে, ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণের ‘হলুদ রেখা’র কাছাকাছি এলাকাসহ দুর্গম অঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে প্রতিদিনের পরিবর্তে এক দিন পরপর রান্না করা খাবার দেওয়া হবে।
তবে, আপাতত গাজার এক-তৃতীয়াংশ রুটির চাহিদা পূরণকারী বেকারিগুলোকে সহায়তা দিয়ে যাবে ডব্লিউএফপি। পাশাপাশি ৩ লাখ নারী ও শিশুকে পুষ্টিসহায়তা এবং ২ লাখ শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্যকর স্কুলের নাশতা দেওয়া অব্যাহত থাকবে।
গাজায় খাদ্যসহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত এমন সময়ে নিতে হচ্ছে যখন উপত্যকাটির ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ বেকার। ফলে বাজারে পাওয়া গেলেও অনেক পরিবারের পক্ষে তাজা শাকসবজি ও আমিষসমৃদ্ধ খাবার কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
ডব্লিউএফপির হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ-আনুমানিক ১৪ লাখ ব্যক্তি-সংকট পর্যায়ের বা তার চেয়ে গুরুতর খাদ্য অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে এ হার ছিল ৭৭ শতাংশ।
সংস্থাটি বলেছে, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তা সীমিত ও ভঙ্গুর। জরুরি খাদ্যসহায়তা না পেলে প্রায় ২ লাখ মানুষ অনাহারে মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে পারবে না।
এদিকে গাজার প্রতি পাঁচটি শিশুর মধ্যে মাত্র একটি পর্যাপ্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার পায়। স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি সেবায় প্রবেশাধিকারও সীমিত রয়েছে।
শীত ঘনিয়ে আসায় জরুরি খাদ্যসহায়তা চালু রাখা, প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত সহায়তা দেওয়া এবং ছোট শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী নারীদের অপুষ্টি প্রতিরোধে দ্রুত অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএফপি।
সংস্থাটি জানায়, ২০২৬ সালে ফিলিস্তিনে তাদের কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ গত কয়েক বছরের প্রাপ্ত অর্থের অর্ধেকেরও কম। গাজা ও পশ্চিম তীরে আগামী মার্চ পর্যন্ত জরুরি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে তাদের ৪৫ কোটি ডলার প্রয়োজন।
অর্থসংকটের প্রভাব পড়েছে পশ্চিম তীরেও। সেখানে সেপ্টেম্বরে সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ থেকে কমিয়ে ২ লাখে নামানো হয়েছে।
কে
