আজকের পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট :
১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ৩৩
নির্বাচনী সংস্কার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বলিউড পারফেকশনিস্ট তারকা আমির খানের ভাগনে ইমরান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া বা ওসিআই কার্ড নিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন।
ওসিআই কার্ডধারীরা ভারতীয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় ভারতে আসা ও থাকার সুযোগ পান। তবে তাঁরা ভোট দিতে বা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না।
বিবিসি জানায়, আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে পুলিশ বলেছে, ‘ইমরান খান মুম্বাইয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।’ পুলিশ বলেছে, বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস ইমরানকে নোটিশ দিয়েছে।
ইমরানের আইনজীবী জানিয়েছেন, অভিনেতা এই নির্দেশের বিরুদ্ধে বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন করবেন। ওসিআই কার্ডধারীদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ—এমন কোনো আইনি বিধান বা নিয়ম নেই।
প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মুম্বাই পুলিশের নোটিশের বিরুদ্ধে ইমরানের করা আবেদনে এই পদক্ষেপকে ‘কঠোর’ বলা হয়েছে।
২০০৮ সালের জনপ্রিয় রোমান্টিক কমেডি চলচ্চিত্র ‘জানে তু... ইয়া জানে না’ দিয়ে পরিচিতি পান ইমরান খান। এর আগে ১৯৮৮ সালের ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ ও ১৯৯২ সালের ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিলেন তিনি।
২০০৮ সালে প্রধান চরিত্রে অভিষেকের পর ইমরান ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’, ‘মেরে ব্রাদার কি দুলহন’ ও ‘দিল্লি বেলি’র মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১০ বছরের বেশি বিরতির পর চলতি বছর নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র ‘আধুরে হাম আধুরে তুম’-এর মাধ্যমে অভিনয়ে ফেরেন ইমরান। এর মধ্যেই তাঁকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হলো।
গত ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির ডাকা বিক্ষোভে অংশ নেন ইমরান। ভোট জালিয়াতির অভিযোগে ভারতের শীর্ষ নির্বাচন কর্মকর্তার পদত্যাগ ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে জেন জি নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর এই আন্দোলন। ভারতের নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারতীয় নাগরিক না হয়েও ইমরান খান আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।’ ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতা কিরিট সোমাইয়া ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, ভারতে অরাজকতা ছড়ানোর ষড়যন্ত্রে অভিনেতা জড়িত।
সোমাইয়ার অভিযোগের সরাসরি জবাব দেননি ইমরান। তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার কোনো দাবি নেই। আমি এখানে একজন নাগরিক হিসেবে, এই শহরে (মুম্বাই) বসবাসকারী একজন মানুষ হিসেবে এসেছি। চলাচলের স্বাধীনতা কেন সীমিত করা হচ্ছে, মানুষের কণ্ঠ কেন রুদ্ধ করা হচ্ছে, তা দেখতে এসেছি।’ ইমরান আরও বলেন, তিনি কোনো সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে বিক্ষোভে যাননি।
বিক্ষোভের পর অন্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ইমরানকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আটক করে পুলিশ। পুলিশি হেফাজতে গাড়ির ভেতর থেকে নিজের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘মনে হচ্ছে, আমি গাড়িতে ঘুরতে যাচ্ছি।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটিতে ২০ লাখের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়ে।
সিজেপির ডাকে গত সপ্তাহে দিল্লি, মুম্বাই ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে হাজারো মানুষ মিছিলে অংশ নেন। গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচন সামনে রেখে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন তাঁরা।
গত সোমবার কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীসহ ভারতের প্রধান কয়েকটি বিরোধী দলের নেতারা দিল্লির কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত হাজারো বিক্ষোভকারীর মিছিলে নেতৃত্ব দেন। গতকাল বুধবার দিল্লিতে বিক্ষোভস্থলে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর সিজেপির শীর্ষ দুই নেতাকে পাঁচ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। রাজধানী দিল্লিতে আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি।

