২ অক্টোবর এশিয়ান গেমসে ভারতকে সোনা জিতিয়েছেন সালিমা টেটে। তাঁর নেতৃত্বে পদক জিতেছে ভারতের মহিলা হকি দল। অথচ তার আট দিন পরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে সালিমা। তাঁর সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করতে পারছেন না। কারণ একটাই। তাঁর গ্রামে নেই মোবাইল সংযোগ।
ঝাড়খণ্ডের সিমডেগা জেলায় বরকি ছপ্পর নামের একটি গ্রামে থাকেন সালিমা। গ্রামে যাওয়ার আগে তিনি অনেককেই মেসেজ করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী কয়েক দিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে না। কারও সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে হলে গ্রামের বাইরে আসতে হয় সালিমাকে।
পিথরা গ্রাম পঞ্চায়েতের আওতায় সালিমার গ্রাম। ভারতের মহিলা হকি দলের অধিনায়ক ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে জানিয়েছেন, মোবাইল সংযোগ না থাকায় হকি সংস্থার কর্তারাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। সালিমা বলেন, “আমাকে গ্রামে যাওয়ার আগে সকলকে জানিয়ে যেতে হয় যে, কয়েক দিন ফোনে পাওয়া যাবে না।”
এ বার গ্রামে ফিরে সিমডেগার ডেপুটি কমিশনার কাঞ্চন সিংহের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন সালিমা। তাঁর অনুরোধ, গ্রামে এ বার মোবাইল সংযোগ ও পানীয় জলের বন্দোবস্ত করা হোক। সালিমা বলেন, “দেশের হকি দলের অধিনায়ক হওয়ার পরেও আমাকে বলতে হয়, খুব দরকার হলে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। এটা আমার কাছে খুব দুঃখের। এত বড় মঞ্চে খেলেছি। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছি। কিন্তু আমার গ্রামে মোবাইল সংযোগ পর্যন্ত নেই।” এই কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মেল বা মেসেজ দেখতে পান না সালিমা। তাতে সমস্যা আরও বাড়ে।
এই প্রসঙ্গে পিথরা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অনিল ওরাওঁ বলেন, “সালিমা যে গ্রামে থাকে সেটা আমার পঞ্চায়েত এলাকায় পড়ে। ও আমাদের গ্রাম ও পঞ্চায়েতের নাম গোটা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি, গোটা ঝাড়খণ্ড ওর জন্য গর্বিত। কিন্তু ওর গ্রামে অনেক সমস্যা রয়েছে। এটা সত্যিই খুব দুঃখের।”
অনিল জানিয়েছেন, তাঁর পঞ্চায়েত এলাকায় মোবাইলের একটি টাওয়ার রয়েছে। কিন্তু বরকি ছপ্পর জেলা তার আওতায় পড়ে না। তিনি বলেন, “গ্রামের বাইরে ওই টাওয়ার। ফলে গ্রামের লোকেরা সেই সুবিধা পায় না। সালিমার বাবা মোবাইল টাওয়ার বসানোর জন্য জমি পর্যন্ত দিতে চেয়েছেন। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা হয়নি।”
সিমডেগার জেলা ক্রীড়া আধিকারিক মনোজ কুমার জানিয়েছেন, এই সমস্যার কথা তিনি আগে জানতেন না। মনোজ বলেন, “সিমডেগা পাহাড়ি এলাকা। সেখানে মোবাইল সংযোগের সমস্যা হতেই পারে। একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তারাই গোটা জেলায় মোবাইল সংযোগের দিকটা দেখছে। সালিমার গ্রামে কী সমস্যা হয়েছে সেটা দেখতে হবে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।”
২০২৪ সালে ভারতের মহিলা হকি দলের অধিনায়ক হন সালিমা। চলতি বছর এশিয়ান গেমসের ফাইনালে তাঁর নেতৃত্বেই চিনকে ১-০ গোলে হারিয়ে সোনা জেতে ভারত। ১৯৮২ সালের পর আবার এশিয়াডে ভারতের মহিলা হকি দল সোনা জিতেছে। তার ফলে সরাসরি ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ভারত। তার পরেও গ্রামে গেলেই ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যান সালিমা।
