তাড়াশে অবৈধ পুকুর খনন, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন
-
গোলাম মোস্তফা বিশেষ প্রতিনিধি (সিরাজগঞ্জ) - আপডেট সময় ০৮:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলায় তিন ফসলের আবাদযোগ্য উর্বর জমি কেটে পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কঠোর ভূমিকায় রয়েছেন এবছর। যেখানে অবৈধ পুকুর খনন করা হবে, সেখানেই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম সাইফ। জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবৈধ পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩ সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা হবে। উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বারুহাস ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামের মো. দুদু মিয়া একটি অবৈধ পুকুর খনন করছেন। পুকুরের মাটি বিক্রি করা হচ্ছে দেদারসে। সরকারি খাল মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুকুরটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ পুকুর খনন করার অপরাধে তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় ও মাটিবাহী কয়েকটি গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মাটি কাটার এস্ককাভেটর মেশিনটিও তুলে দেওয়া হয়েছে পুকুর থেকে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছর জনসম্মূখে উর্বর জমি কেটে অবৈধ পকুর খনন করা হয়। এ নিয়ে একাধিক মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও কৃষক সমাবেশ করেছেন তারা। অথচ, বিগত বছরগুলোয় একটি পুকুর খনন বন্ধ করতে পারেননি প্রশাসন। আশায় বুক বেধে রয়েছেন কৃষকরা, অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ হবে কবে! কৃষক আব্দুর রহিম, মোতালেব হোসেন, আরমান আলী, আব্দুস সবুর, জিল্লুর রহমান, আব্দুল কাদের, এসাহাক সরকার, শাহালম প্রামনিক বলেন, কতিপয় জমির মালিক হাজারও কৃষকের জীবন জীবিকার কথা না ভেবে পুকুর কেটে মাছ চাষ করছেন। যত্রতত্র অবৈধ পুকুর খনন করায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সবখানেই প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তাড়াশ সদর ইউনিয়নের মাধবপুর, মথুরাপুর, বিদিমাগুড়া, চক গোপিনাথপুর, বোয়ালিয়া ও সোলাপাড়া গ্রাম এলাকার কৃষকরা বলেন, মাঠে মাঠে পানি আটকে রয়েছে। কৃষিজমি কচুরিপানা ও বিভিন্ন জাতের ঘাসে ভরে গেছে। জলাবদ্ধ জমিতে দীর্ঘ সাত বছর কোনো ফসলের আবাদ করতে পারে না তারা। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জানা গেছে, কাউরাইল ও সোলাপাড়া গ্রাম এলাকায় এখনও কয়েকটি অবৈধ পুকুর খনন করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, দুদু মিয়ার পুকুরে মাটি কাটা এস্ককাভেটর নাই। মাটিবাহী কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। এস্ককাভেটরটি প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বিনসাড়া বাজারের পাশে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দেওয়া হয়েছে। ‘সুজন-সুসাশনের জন্য নাগরিক’ তাড়াশ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজু, পুকুর খনন বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও জনসচেতনতার উপর গুরুত্বারোপ করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, তাড়াশের মাটি বেশ উর্বর। এখানকার বিস্তীর্ণ মাঠের অধিকাংশ কৃষি জমিতে বছরে তিন বার বিভিন্ন জাতের ধান ও রবিশস্যের আবাদ হয়। মূলত মধ্যসত্বভোগী একটি চক্র অবৈধ পুকুর কাটার সব দায়ভার নিয়ে কৃষকদের পুকুর খনন করতে উৎসাহী করছেন। সরকারি পরিসংখ্যান মোতাবেক তাড়াশ উপজেলায় এক দশকে অবৈধ পুকুর খনন করা হয়েছে সারে চার হাজারের বেশি। কৃষি জমি কমেছে প্রায় ১৩ হাজার বিঘা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান বলেন, অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে বিগত বছরগুলোর তুলনায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম সাইফ দৈনিক খবরপত্রকে বলেন, শনিবার রাতে একটি পুকুরে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। খননকৃত পুকুরটি থেকে যদি সামান্য পরিমাণ মাটিও কাটা হয়, সেক্ষেত্রে জরিমানা নয়, জমির মালিককে জেল দেওয়া হবে।
ট্যাগস :
