মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে কাউন্টারে দায়িত্বরত অবস্থায় শাকের হোসেন (৩৯) নামের এক যুবদল নেতা মারা গেছেন। আজ বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পারনান্দুয়ালী টার্মিনালের রয়েল পরিবহনের বাস কাউন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ হয়ে শাকের হোসেনের মৃত্যু হয়েছে—এমন ধারণা থেকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা দাফন করার উদ্যোগ নেন। তবে মরদেহের গোসল করাতে গিয়ে তাঁরা মাথার পেছনে ক্ষত দেখতে পান। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শাকের হোসেন মাগুরা পৌরসভার পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়ার মৃত কুতুবউদ্দিনের ছেলে। তিনি মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের মাগুরা কাউন্টারের ব্যবস্থাপক বিপুল কুমার দাস বলেন, প্রায় ১৭ বছর ধরে শাকের হোসেন কাউন্টার মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সাধারণত ভোরে দায়িত্ব পালন করেন। আজ ভোর ৫টার দিকে তিনি কাউন্টারে আসেন। সবশেষ আজ ভোর ৫টা ২৫ মিনিটের দিকে তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। সাড়ে পাঁচটায় বাসের প্রথম ট্রিপ ছিল। ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে ওই বাসের কন্ডাক্টর আমাকে জানান, শাকের অচেতন অবস্থায় কাউন্টারে পড়ে আছে। তখন তাঁকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শাকের হোসেনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমে শারীরিক কোনো আঘাতের চিহ্ন দৃশ্যমান না থাকায় চিকিৎসকেরা জানান, স্ট্রোক বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হতে পারে। তাঁরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। মরদেহ গোসলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় শাকের হোসেনের মাথার পেছন দিকে একটি ছিদ্র বা ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান। পরে ময়নাতদন্তের জন্য দ্বিতীয় দফায় তাঁকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।
জানতে চাইলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসান বলেন, আমরা মরদেহের মাথার চুল শেভ করে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছি, সেখানে একটি পাংচার বা পেনিট্রেটিং ক্ষত রয়েছে। তবে এটি আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির জন্য হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণে, তা ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়া এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এটি এখন সম্পূর্ণ পুলিশ কেস। মরদেহের পোস্টমর্টেম (ময়নাতদন্ত) করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেন শাকের হোসেনের আত্মীয় মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্য মো. কুতুবউদ্দিন। তিনি বলেন, টার্মিনালে তখন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি মোটরসাইকেলে দুজন লোক এসেছিল। এ সময় মোটরসাইকেলে জোরে সাইলেন্সার বাজানো হয়; এমনকি একজন যাত্রী গুলির শব্দ শোনার কথাও বলেছেন। কাউন্টারে তিনি (শাকের হোসেন) যেখানে বসে ছিলেন, সেখানে টেবিলের ওপর ও নিচে ফ্লোরে ছোপ ছোপ রক্ত পড়ে আছে।
সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এটা হত্যাকাণ্ড কি না, এখনই নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল কর্ডন করে আলামত সংগ্রহ করছে। ময়নাতদন্তের পর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। সব দিক বিবেচনায় নিয়েই তদন্ত চলছে।
The post প্রথমে মনে হয়েছিল স্ট্রোক, মরদেহ গোসল করাতে গিয়ে মিলল মাথার পেছনের রহস্যজনক ক্ষত appeared first on লোকসমাজ.
