আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ, বেকারত্ব ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যা নিয়ে জনঅসন্তোষের মধ্যে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে। আগের দিনের সংঘর্ষে রাবার বুলেট ব্যবহারের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের উভয় পক্ষের সদস্য আহত হয়েছেন। তবে হতাহত ও গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত দাবির পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করেছে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে সরকারি ভবন, ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়।
আন্দোলনের পেছনে দক্ষিণ আলবেনিয়ার একটি বিলাসবহুল পর্যটন প্রকল্প নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকল্পটি ঘিরে আপত্তির পাশাপাশি সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও জোরালো হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ও প্রকল্পসংক্রান্ত বিতর্ক দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী এদি রামা পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর মতে, চলমান বিক্ষোভ আলবেনিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রচেষ্টার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা সহিংসতা বন্ধ, সংযম প্রদর্শন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকার ও বিক্ষোভকারীদের অবস্থানে দৃশ্যমান সমঝোতা না থাকায় দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ, শিক্ষার্থীদের দাবির সমাধান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলার ধরন আগামী দিনগুলোতে আন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
The post আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ appeared first on ভোরের চেতনা.
