Published on
:
2 min read
এই সময়: আইডিবিআই ব্যাঙ্ককে ধনকুবের প্রেম ওয়াৎসা-র ফেয়ারফ্যাক্স ফিনানশিয়াল হোল্ডিংস-এর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরে এ বার চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে নিজেদের অংশীদারি কমিয়ে ৭৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা ভাবছে কেন্দ্র। শেয়ারবাজার নিয়ামক সংস্থা সেবির ন্যূনতম ২৫ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রাখার নিয়ম মেনে চলতেই এই উদ্যোগ বলে সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা জানিয়েছে।
যে চারটি ব্যাঙ্কে কেন্দ্র নিজস্ব অংশীদারি কমানোর পরিকল্পনা করছে, সেগুলি হলো সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ইউকো ব্যাঙ্ক, পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্ক এবং ইন্ডিয়ান ওভারসিজ় ব্যাঙ্ক। আগামী এক বছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির সংযুক্তিকরণের পরবর্তী পর্যায়ের পরিকল্পনা নিয়েও এগোচ্ছে কেন্দ্র। সে ক্ষেত্রে আরও দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে বেসরকারিকরণের জন্য চিহ্নিত করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোন ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণ হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বর্তমানে ইন্ডিয়ান ওভারসিজ় ব্যাঙ্কে কেন্দ্রের অংশীদারি ৯২.৪৪ শতাংশ, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে ৮১.১৯ শতাংশ, ইউকো ব্যাঙ্কে ৯০.৯৫ শতাংশ এবং পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্কে ৯৩.৮৫ শতাংশ অংশীদারি রয়েছে। এই চারটি ব্যাঙ্কে সরকারি অংশীদারি ৭৫ শতাংশে কমিয়ে আনতে হলে বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার ছাড়তে হবে। বিশেষত পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ় ব্যাৈঙ্ক এবং ইউকো ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে কেন্দ্রকে তুলনামূলক বেশি শেয়ার বিক্রি করতে হবে। সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অংশীদারি তুলনায় অনেক কম হ্রাস করতে হবে। তবে কত শেয়ার বিক্রি করা হবে এবং কখন সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে, তা নির্ভর করবে শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি এবং সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপরে।
সরকারি সূত্রের দাবি, এই চারটি ব্যাঙ্কে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা শেয়ারের পরিমাণ বাড়ানোই আপাতত প্রথম লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে কেন্দ্র অফার ফর সেল (ওএফএস) প্রক্রিয়ায় নিজেদের হাতে থাকা শেয়ারের একাংশ বিক্রি করতে পারে।
এর পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির সংযুক্তিকরণ নিয়ে বৃহত্তর পরিকল্পনাও করছে কেন্দ্র। দীর্ঘমেয়াদে তিন থেকে চারটি বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে সরকারি মহলে আলোচনা চলছে। সেই পরিকল্পনায় প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর সামঞ্জস্য, বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাঙ্কগুলির উপস্থিতি, ব্যবসার ধরন এবং ঋণ ও আমানতের কাঠামোর মতো বিষয় বিবেচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলির কাছ থেকেও এ বিষয়ে প্রস্তাব চাওয়া হতে পারে। নীতি আয়োগের তরফে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান ওভারসিজ় ব্যাঙ্কের নাম সম্ভাব্য বেসরকারিকরণের জন্য উঠে এসেছিল বলে সংবাদসংস্থার রিপোর্টে দাবি।
