Published on
:
2 min read
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর বিরুদ্ধে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ চলছেই। তার মধ্যেই সংসদে আবার মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) বিল পাশ করাতে উদ্যোগী হতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি মাসের শেষের দিকেই বিশেষ অধিবেশন ডেকে সেই বিল সংসদ পেশ করা হতে পারে পারে।
আসন পুনর্বিন্যাস করে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩টি থেকে বাড়িয়ে ৮১৬টিতে নিয়ে যাওয়ার এই বিল গত এপ্রিলেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারের একটি সূত্রে দাবি হলো, বিল পাশ করাতে সংসদের উভয় কক্ষে যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, তা এখন এনডিএ-র হাতে রয়েছে।
ইতিমধ্যেই তামিলনাড়তে এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে-র সঙ্গে এই ব্যাপারে আলোচনা শুরু হয়েছে। লোকসভায় ডিএমকে-র সাংসদ সংখ্যা ২২। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে সরকার পক্ষ। পাশাপাশি, তারা আশা করছে, শরদ পাওয়ারের এনসিপি-র ৮ জন সাংসদের সমর্থনও তারা পাবে। তবে সূত্রের দাবি, শরদের দল শর্ত দিয়েছে, প্রতি রাজ্যের লোকসভা আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ করে বাড়াতে হবে। সরকারি সূত্রেরও বক্তব্য, শরদের সঙ্গে স্ট্যালিনের ডিএমকে-রও সমর্থন পেতে মোদী সরকার সংবিধান সংশোধনী বিলে লিখে দিতে রাজি যে, লোকসভার মোট আসনের সঙ্গে রাজ্য পিছু লোকসভা আসন ৫০ শতাংশ বাড়ানো হবে।
এনডিএ-র একটি সূত্রের দাবি, এখন লোকসভার ৫৪০ জন সাংসদ আছেন। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ৩৬০ জনের সমর্থন বা ভোট দরকার। তৃণমূল, উদ্ধবের শিবসেনায় ভাঙন ধরানোর পরে এনডিএ ৩১৯-এ পৌঁছে গিয়েছে। শরদের এনসিপি ও ডিএমকে সমর্থন করলে এনডিএ ৩৪৯-এ পৌঁছে যাবে। ফলে অল্প কয়েকটি ভোটের প্রয়োজন হবে। একই ভাবে রাজ্যসভাতেও আম আদমি পার্টি ও তৃণমূলের ভাঙনের ফলে এনডিএ ১৫৫-য় পৌঁছে গিয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৬৩টি ভোট দরকার। পওয়ার, স্ট্যালিনের সমর্থন পেলে এনডিএ আরও কাছাকাছি চলে যাবে।
গত এপ্রিলে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকে মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করাতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু এই বিল পাশ করাতে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। তার জন্য সংসদের উভয়কক্ষে যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার, সেই সময়ে নরেন্দ্র মোদীর সরকারের ছিল না। বিলটির বিপক্ষে ২৩০টি ভোট দেয় বিরোধীরা। পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট। এপ্রিল মাসের ভোটে ৫২৮ জন সাংসদ ফলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৩৫২টি ভোটের লক্ষ্যমাত্রা এনডিএ ছুঁতে পারেনি। ফলে বিল পাশ হয়নি।
তবে অন্য একটি সরকারি সূত্র দাবি করেছে, সবটাই নির্ভর করছে সমর্থন জোগাড়ের উপরে। মোদী সরকার আগে থেকেই ভেবে রেখেছে, দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন জোগাড় করতে পারলেই এই বিষয়টি নিয়ে এগোনো হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, আগের বার বিল পাশ না হওয়ায় মোদী সরকারের মুখ পুড়েছিল। এ বার যাতে তেমনটা না ঘটে, সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছেন মোদী-অমিত শাহেরা। সম্ভবত, কাঙ্খিত লক্ষ্যের অনেক কাছাকাছিই তাঁরা পৌঁছে গিয়েছেন বলে বিশেষ অধিবেশনের ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে।
