আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফ্রান্সের একাধিক শহরে বিক্ষোভ, লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় এবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে নিশানা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, অভিবাসন নীতি নিয়ে ম্যাক্রোঁকে আগেই সতর্ক করেছিলেন তিনি। সেই পরামর্শ মানলে ফ্রান্সে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো যেত বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে প্যারিসের জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তাঁর মন্তব্য, ‘প্যারিস খুব শীঘ্রই একটি মুসলিম শহর হয়ে যাবে, আর এমনটা হওয়ার কথা ছিল না।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ম্যাক্রোঁ তাঁর বন্ধু। বহু বছর আগেই তাঁকে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে ফ্রান্সে প্রবেশ করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বড় ভুল হতে পারে। ট্রাম্পের দাবি, তাঁর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার ফলেই ফ্রান্সের পরিস্থিতি আজ জটিল হয়েছে। তবে প্যারিসের জনবিন্যাস নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য তাঁর নিজস্ব দাবি, এর সমর্থনে কোনও পরিসংখ্যান তিনি তুলে ধরেননি।
ফ্রান্সের একাধিক শহরে কার্ফু, কড়া নিরাপত্তা
সপ্তাহান্তে হিংসা, লুটপাট এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর প্যারিস, লিল, নিস-সহ ফ্রান্সের একাধিক শহরে কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কার্ফু এবং জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে গোটা প্যারিসে একসঙ্গে কার্ফু জারি না করে পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানীয় স্তরে বিধিনিষেধ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তাঁর অবস্থান কঠোর। প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। সোমবার রাত ৮টা থেকে রাজধানীর নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে পুলিশ। পাশাপাশি প্লাস দে লা রিপাবলিক এবং লে আল এলাকায় রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্ফু জারি করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশকর্মীও মোতায়েন করা হয়েছে।
হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩,০০০ দোকান
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, অশান্তির ঘটনায় প্রায় ২,৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ১,০০০ পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। হিংসার জেরে সপ্তাহান্তে প্রায় ৩,০০০ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন অফ ট্রেড অ্যান্ড রিটেল। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তার দাবিও উঠেছে।
অন্য দিকে, টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণে হিংসা ও ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা করেছেন ম্যাক্রোঁ। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দাবির সঙ্গে হিংসায় জড়িতদের কাজকে এক করে দেখা উচিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। আপাতত জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করলেও সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় প্রয়োজনে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়ার কথা বলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এখন প্রশাসনের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc
