মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ কোটি টাকার শুল্ক-কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। বন্ড ও ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি দিয়েছে। একই সঙ্গে যন্ত্রপাতি আমদানিতে অনিয়ম করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়।
৫২৫টি মেশিনারিজ আমদানির ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে এবং এসব মেশিনারিজ বিক্রি করে দেওয়ার মাধ্যমে ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে এসব অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে বলে গতকাল রোববার তথ্য প্রকাশ করে। এনবিআরের আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত চলছে। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট কত টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলমান।
অধিদপ্তরের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, উইলিয়ামস সোয়েটার্স চীন এবং ভারত থেকে বন্ড ও এফওসি সুবিধায় তিনটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ৩৭ টন কাঁচামাল আমদানি করেছে। এসব কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় দুই কোটি তিন লাখ টাকা। এর বিপরীতে নিরূপিত শুল্ক-কর প্রায় এক কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, আমদানি করা এসব কাঁচামাল নির্ধারিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যবহার না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা পণ্য সাধারণত নির্ধারিত শর্তে রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনে ব্যবহারের সুযোগ পায়। অনুসন্ধানে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বন্ড রেজিস্টার পরিদর্শনের স্থানে এসব পণ্য পাননি। এ ছাড়া আমদানি-রপ্তানির তথ্য দিতে না পারা এবং আমদানি করা কাঁচামালের প্রকৃত অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ার মতো অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৫২৫টি মেশিনারিজ আমদানির ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব মেশিনারি বিক্রি করে দেওয়ার মাধ্যমে ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ সম্পর্কে জানা যাবে।