মানিকগঞ্জে বাকপ্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->মানিকগঞ্জের ঘিওরে বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামি শামসুল (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-৪, সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এস কে এম সাদমান হোসেন।
এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার বানিয়াজুরী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৪, সিপিসি-৩, মানিকগঞ্জের একটি আভিযানিক দল।
আরও পড়ুন
গ্রেপ্তার শামসুল ঘিওর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে বাসিন্দা।
মামলা ও র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটার দিকে ভুক্তভোগী নারীর বাবা চা খেতে পাশের বাজারে যান। এ সময় বাড়িতে একা ছিলেন ওই নারী। রাত সাড়ে আটটার দিকে শামসুল তাদের বাড়িতে গিয়ে মোবাইল ফোন দেখানোর কথা বলে ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চলে যাওয়ার সময় কাউকে বিষয়টি না জানানোর জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
পরে ওই নারীর বাবা বাড়িতে ফিরলে তিনি তাকে ঘটনাটি জানান। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে জানানো হলে তারা ঘিওর থানা-পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় ঘিওর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ১৩ অক্টোবর করা হয় বলে র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেজর এস কে এম সাদমান হোসেন জানান, গ্রেপ্তারের পর শামসুলকে ঘিওর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আসাদ জামান/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
ঝালকাঠিতে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দারকে সংবর্ধনা
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারকে সংবর্ধনা দিয়েছে ঝালকাঠি প্রেসক্লাব ও ঝালকাঠি সাংবাদিক ইউনিয়ন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের হলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘আজকের এই সম্মাননা আমার জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে থাকবে। এ সম্মাননার জন্য আমি ধন্য ও কৃতজ্ঞ।’
আরও পড়ুন
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। আগের সরকারের সময় বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে অধিবেশনে অংশ নেওয়া হলেও বর্তমান সরকার তুলনামূলক কমসংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে অংশ নিয়েছে।’ সেই প্রতিনিধিদলের একজন হিসেবে তিনিও অধিবেশনে যোগ দেন।
স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিবর্তন পরিকল্পনা তুলে ধরে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চাই। আমরা চাই, রোগ হওয়ার আগেই রোগ নির্ণয় করতে। এ জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিতে চাই।’
জাতিসংঘের অধিবেশনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা এবং সংক্রমণের পরিস্থিতিতে করণীয় তুলে ধরেছেন। দেশের স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
গত ১৭ বছরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেসব ক্ষেত্রে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, সেসব ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।’
শিশুদের ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার সাফল্য ও অর্জনের সুফল কোমলমতি শিশুদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে।’
ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্কাস সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিন উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মাহমুদউল্লাহ, বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প সমিতির মহাসচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ এবং ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির সভাপতি আনিচুর রহমান তাপু।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আ স ম মাহমুদুর রহমান পারভেজ, দৈনিক দূরযাত্রার সম্পাদক জিয়াউল হাসান পলাশ ও ঝালকাঠি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম টুটুল।
বক্তারা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দারকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি ঝালকাঠির উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নেয়ামুল আহসান হিরন/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
মাগুরায় অতিরিক্ত মদ্যপানে ২ যুবকের মৃত্যু
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ এএম
আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->মাগুরায় বিজয়া দশমীর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপানের পর অসুস্থ হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মারা যাওয়া দুই যুবক হলেন- মাগুরা সদর উপজেলার মকরদোম খোলা গ্রামের মো. আলমগীর লস্কর এবং শ্রীপুর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের মালদা গ্রামের বিধান বিশ্বাস (২২)।
আরও পড়ুন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিজয়া দশমীর রাতে মাগুরার জারিয়া সার্বজনীন পূজামন্দিরে বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপান করেন আলমগীর লস্কর ও বিধান বিশ্বাস। এরপর অসুস্থ বোধ করলে আলমগীরকে তার বন্ধুরা বাড়িতে পৌঁছে দেন। বাড়িতে অবস্থানকালে বৃহস্পতিবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।
শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, মদ্যপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিধান বিশ্বাস বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিধান বিশ্বাসের কাকি সুপ্রিয়া সাহা জানান, দশমীর রাতে অতিরিক্ত মদ্যপান করার পর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাড়িতে প্রথম দিকে এসে কাউকে কিছু না জানালেও পরবর্তীতে শরীরে অতিরিক্ত যন্ত্রনা শুরু হলে সে পরিবারের সদস্যদেরকে জানায়। এরপর রাতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইমরান বলেন, ‘দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া জানান, অতিরিক্ত মদ্যপানের পর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। বর্তমানে মরদেহ দুটি মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের অস্থায়ী লাশঘরে রাখা হয়েছে।
কাসেমুর রহমান/অলি/
আরও পড়ুন
সরকারি সফরের নামে স্ত্রীকে নিয়ে ভ্রমণের অভিযোগ রেলসচিবের বিরুদ্ধে
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
রেল ট্রলিতে সস্ত্রীক রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ
-->সরকারি সফরের সূচি তৈরি করে পাবনার ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়ার রেলওয়ে স্থাপনা পরিদর্শনের নামে স্ত্রীসহ ব্যক্তিগত ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় গিয়ে এই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
গত ১৭ অক্টোবর রেলওয়ে সচিবের একান্ত সচিব (উপসচিব) শামীমুর রহমান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে জানানো হয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা সফর করবেন। এই সফরকে সরকারি সফর হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ঢাকা, পাবনা ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপককে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে পাকশী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান রেল সচিব ফাহিমুল ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ঢাকা মেডিকেল কলেজের গাইনী বিভাগের অধ্যাপক ডা. তাহমিনা হোসেনসহ কয়েকজন।
দুপুরে পাকশী রেলওয়ের ভিআইপি রেস্টহাউজে অবস্থান ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেলে তারা রেল ট্রলিতে পাকশীর রেলওয়ে স্থাপনা এবং ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে সচিবের সঙ্গে তার স্ত্রীকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজসহ পাকশীতে রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনের সময় তার সঙ্গে ছিলেন পশ্চিম রেলের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বিভাগীয় প্রকৌশলী (২) নাজিব কায়সার এবং বিভাগীয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট রেজওয়ান উর রহমানসহ রেলওয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
তবে সফরসূচি অনুযায়ী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আহম্মদ হোসেন মাসুম, সচিবের একান্ত সচিব (উপসচিব) মো. শামীমুর রহমান এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম সিদ্দিকীর মতো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তাদের কাউকে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, 'সচিব স্যার একাই নিজের মতো করে সব ঘুরে দেখতে চেয়েছেন, তাই আমরা এই সফরে যোগ দেইনি।' সচিবের একান্ত সচিব শামীমুর রহমানও একই ধরনের মন্তব্য করেন।
এদিকে দাপ্তরিক কাজের দোহাই দিয়ে সরকারি সফরকে পারিবারিক ভ্রমণে রূপ দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সরকারি পদমর্যাদা ও সম্পদ ব্যবহার করে সরকারি সফরের নামে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ভ্রমণ স্পষ্টতই অনিয়ম ও সরকারি সম্পদের অপব্যবহার।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি সরকারি সফরের অংশ হিসেবেই রেল পরিদর্শনে এসেছেন।’
তবে সরকারি সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে আনার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো জবাব না দিলেও তার দাবি, সরকারি সফরে সপরিবারে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন ট্রেন চলাচল শুরু হবে এবং ট্রেনটির ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে স্টপেজ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাহাঙ্গীর হোসেন/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
চাঁদপুরে মা-ইলিশ রক্ষায় অভিযান, মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ফল
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনা নদীতে বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার। নিয়মিত অভিযান, জেল-জরিমানা ও অবৈধ জাল জব্দ করেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরা ঠেকাতে পারছে না প্রশাসন। অভিযানে ব্যবহৃত ট্রলারের চেয়ে জেলেদের নৌকার গতি বেশি হওয়ায় ধাওয়া করেও তাদের আটক করা যাচ্ছে না। ফলে অনেক সময় জেলেদের ধরতে না পেরে পরিত্যক্ত জাল জব্দ করেই ফিরতে হচ্ছে অভিযান পরিচালনাকারীদের।
বৃহস্পতিবার উপজেলার এখলাসপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীতে পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের অভিযানের ট্রলার দেখেই দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান জেলেরা। সর্বোচ্চ গতিতে ধাওয়া করেও তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে নদীতে জাল ফেলে পালিয়ে গেলে মৎস্য বিভাগের কর্মীরা সেসব জাল জব্দ করেন।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, মা-ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও বিক্রি নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন
উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৩৪টি অভিযান ও পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বেশ কয়েকজন জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকিরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতটি নৌকা, দেড় লাখ মিটারের বেশি অবৈধ জাল ও ২০৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মাছ বিভিন্ন এতিমখানা ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। অবৈধ জাল প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরী আলম বলেন, ‘প্রশাসন ও জেলেদের মধ্যে যেন চোর-পুলিশ খেলা চলছে। অভিযানের ট্রলারের গতি সম্পর্কে ধারণা থাকায় জেলেরা হালকা ও শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করছেন। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বিশেষ করে গভীর রাতে এবং টহল শেষ হওয়ার পর নদীতে মাছ ধরার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পেশাদার জেলেদের পাশাপাশি কিছু মৌসুমি জেলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরছেন। নদীর দুর্গম এলাকা ও শাখা নদীগুলোতে নজরদারি কম থাকায় তারা এ সুযোগ নিচ্ছেন। এতে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সজিব চন্দ্র দে বলেন, ‘জনবলসংকট, বাজেট স্বল্পতাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মা-ইলিশ সংরক্ষণে সাধ্যমতো চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সীমিত সামর্থ্যের কারণে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব না হলেও অভিযান মোটামুটি সফল হচ্ছে।’
