Published on
:
2 min read
কোলাঘাটে ফুচকা খেয়ে শতাধিক মানুষের অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। পুজোর মরশুমে খাবার থেকে বিষক্রিয়া ঠেকাতে বিশেষ নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কালীপুজো ও ভাইফোঁটা পর্যন্ত বিভিন্ন মেলা, পুজো মণ্ডপ সংলগ্ন খাবারের স্টল এবং অস্থায়ী খাবারের দোকানে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে পুজো কমিটিগুলিকেও তাদের মণ্ডপ চত্বরে বসা খাবারের স্টলের মালিক এবং বিভিন্ন ছোট ব্যবসায়ীদের নাম-পরিচয় ও ঠিকানার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে রাখতে বলা হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
বুধবার রাজ্যের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির নির্দেশে খাদ্য সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে পর পর দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, প্রথম বৈঠকটি শুরু হয় দুপুর ৩টে থেকে। ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে হওয়ায় ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজ্যের কমিশনার অফ ফুড সেফটি। উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্যের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক দীপঙ্কর মাজি, ন্যাশনাল হেলথ মিশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি, এনএইচএম), বিভিন্ন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ) এবং ডেপুটি সিএমওএইচ-২ পদমর্যাদার আধিকারিকেরা।
সরকারি সূত্রেই খবর, ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আপাতত কালীপুজো ও ভাইফোঁটা পর্যন্ত, অর্থাৎ যত দিন পুজো উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় মেলা ও উৎসব চলবে, তত দিন খাবারের স্টলগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। মেলায় বসা সমস্ত খাবারের স্টল পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্টলগুলিতে খাবার তৈরি, পরিবেশন ও বিক্রির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তার পাশাপাশি সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা।
স্বাস্থ্য ভবনে বিকেল ৫টা থেকে আরও একটি বৈঠক হয়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় বৈঠকে খাবারের স্টল মালিকদের পরিচয় সংরক্ষণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। সিদ্ধান্ত হয়েছে, সাধারণ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুজো কমিটিগুলিকে অনুরোধ করা হবে, যাতে তাদের পুজো মণ্ডপের সামনে বা আশপাশে যে সমস্ত খাবারের স্টল বসছে, সেগুলির মালিকদের পরিচয় ও ঠিকানার তথ্য সংগ্রহ করে রাখা হয়। স্টল মালিকদের আধার কার্ডের তথ্য, ঠিকানার নথি সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির কাছে জমা দিতে বলা হবে। সরকারি সূত্রের দাবি, কোলাঘাটের ঘটনায় ফুচকা স্টলের অভিযুক্ত মালিককে খুঁজে পেতে সমস্যা হয়েছিল। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
শুধু পুজো মণ্ডপের কাছে বসা স্টল নয়, মেলা প্রাঙ্গণের ভিতরে থাকা সমস্ত খাবারের দোকানের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে বৈঠকে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সাধারণ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পুজো কমিটি বা মেলা কমিটিকে মেলা আয়োজনের জন্য যে অনুমোদন (এনওসি) দেওয়া হয়, তার সঙ্গে স্টল মালিকদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি যুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ, মেলায় স্টল বসানোর অনুমতি দেওয়ার আগে প্রত্যেক স্টল মালিকের পরিচয়, আধার কার্ডের তথ্য এবং ঠিকানা সংগ্রহ করে রাখতে হবে। সেই তথ্য নেওয়ার পরেই যাতে সংশ্লিষ্ট স্টল বা মেলার জন্য এনওসি দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
অন্য দিকে, খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের জন্যও কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, খাবার বিক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অবহিত করাই তাঁদের প্রধান কাজ হবে। তবে তাঁদের নিজেদের দৈনিক দায়দায়িত্বও সামলাতে হবে।
