মীরসরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার কাশফুলের চোখজুড়ানো সমাহার ঘটেছে। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর বাতাসে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুলের মিতালী দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
সরেজমিনে উপজেলার অর্থনৈতিক জোনের বিভিন্ন খালি জায়গায় এবং মীরসরাই রেল স্টেশনের অদূরে রেললাইনের দুপাশে বিস্তীর্ণ কাশবন দেখা গেছে। প্রতিবছর আগস্টের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে অক্টোবর পর্যন্ত এই ফুল ফোটে। বছরের এই দুই মাস মীরসরাইয়ের উপকূলীয় এলাকার এসব কাশবনে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের ভিড় লেগে থাকে।
শরতের এই নির্মল সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরিবার–পরিজন, বন্ধুবান্ধব ও দলবেঁধে স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীরা এখানে ছুটে আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ কাশবনে দাঁড়িয়ে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ সড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই রূপ। যান্ত্রিক জীবনের কর্মব্যস্ততা থেকে কিছুটা সময় কাটাতে আসা বিনোদনপ্রেমীদের জন্য এখন অন্যতম আকর্ষণীয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে এই কাশফুলের বালুচর।
ফেনী থেকে বেড়াতে আসা শিক্ষিকা বৃন্দা রাণী পাল বলেন, শরতের এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতেই সমুদ্র উপকূলের কাশবনে আসা। স্থানীয় ট্যুর গাইড অজয় কুমার বলেন, দিগন্তজোড়া কাশফুলের মনোরম দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করে। এই কাশবন এখন অর্থনৈতিক অঞ্চলের পর্যটন আকর্ষণে বড় ভূমিকা রাখছে।
উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, কাশফুল এক ধরনের বহুবর্ষজীবী ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ, যা সাধারণত তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। নদী, ছড়া কিংবা জলাশয়ের তীরে ফুটে থাকা কাশফুল প্রকৃতিতে এনে দেয় এক অনন্য রূপ।
প্রাকৃতিক এই কাশবন রক্ষায় দর্শনার্থীদের ফুল না ছেঁড়া, ময়লা–আবর্জনা না ফেলা এবং পরিবেশবান্ধব আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা। তাদের প্রত্যাশা, সবার সচেতনতায় মীরসরাইয়ের এই মনোরম পরিবেশ দীর্ঘ সময় টিকে থাকবে এবং প্রতি বছরই পর্যটকদের মুগ্ধ করবে।

