ড. ইউনূসকে হেনস্তা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের হিংসাত্মক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ: রিজভী
রাজনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সম্প্রতি এক সংবাদ বিবৃতিতে তিনি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রিজভী উল্লেখ করেন যে, ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দলের অনুসারীরা এই ধরনের আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করার কারণেই একটি মহলের রোষানলের শিকার হয়েছেন ড. ইউনূস। সাবেক এই সরকারপ্রধানকে বিমানবন্দরে অসম্মান করার পেছনে রয়েছে গভীর প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব। বিএনপি নেতার মতে, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা বিদেশ বিভুঁইয়েও তাদের ধ্বংসাত্মক ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে, যার সর্বশেষ প্রমাণ এই বিমানবন্দর কাণ্ড।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস কেবল বাংলাদেশের একজন সাবেক শীর্ষ নেতাই নন, তিনি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত একজন নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এমন একজন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অর্থ হলো সমগ্র বাংলাদেশকে বিশ্ববাসীর সামনে হেয় প্রতিপন্ন করা। পলায়নপর দুষ্কৃতকারীরা বিভিন্ন দেশে লুকিয়ে থেকে দেশের বিরুদ্ধে এই ধরনের নানা অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বিবৃতির শেষাংশে বিএনপি নেতা মন্তব্য করেন যে, সুদীর্ঘ শাসনকালে দেশে গুম, খুন ও অরাজকতার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে তাদের অনুসারীরা এখনো বের হয়ে আসতে পারেনি। বিদেশের মাটিতে ঘটে যাওয়া এই অপ্রীতিকর ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে ক্ষমতা হারানোর পরও তাদের হিংসাত্মক মানসিকতায় বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
