Published on
:
1 min read
এই সময়: সারা শরীরে তীব্র চুলকানি, দীর্ঘস্থায়ী জন্ডিস, সঙ্গে বয়সের তুলনায় ওজন না বাড়ার সমস্যা। ১১ মাসের এক শিশুর এই উপসর্গগুলি নিয়ে শুধু পরিবার নয়, নাজেহাল ছিলেন চিকিৎসকরাও। কিছুতেই গোড়ায় বোঝা যাচ্ছিল না রোগের শিকড়। শেষে বিস্তর পরীক্ষার পরে জানা গেল, নেপথ্যে রয়েছে ‘এআরসি সিনড্রোম’ নামে বিরল জিনগত অসুখের সূত্র। দমদমের আইএলএস হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রো–এন্টেরোলজিস্ট অর্ঘ্য সামন্তর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ওই শিশুটির আপাতত শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
এই এআরসি সিনড্রোমের প্রকোপ দেখা যায় প্রতি ১০ লক্ষে এক জনেরও কম মানুষে। প্রকাশিত চিকিৎসা-নথিতে এখনও পর্যন্ত ১০০ জনেরও কম আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, জিনগত পরীক্ষায় চিহ্নিত হয়, ভিপিএস৩৩বি জিনের রোগ সৃষ্টিকারী মিউটেশনের কারণে শিশুটি এআরসি সিনড্রোমে আক্রান্ত।
এই বিরল বংশগত রোগে পিত্তরসের প্রবাহে সমস্যা, কিডনির কার্যকারিতায় ব্যাঘাত এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন ও নড়াচড়ায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। আশার কথা, গত চার মাস ধরে নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে শিশুটির অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ধীরে ধীরে বেড়েছে ওজন। উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে জন্ডিসের তীব্রতা। আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে সারা শরীরের চুলকানিও।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের দীর্ঘস্থায়ী জন্ডিসের সঙ্গে তীব্র চুলকানি ও বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার লক্ষণ থাকলে বিরল বংশগত রোগের আশঙ্কা খতিয়ে দেখা জরুরি। সময়মতো জিনগত পরীক্ষা রোগের কারণ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।