দুই হাজার ২৫১ জন শিক্ষার্থী, গবেষক ও উদ্ভাবকের অংশগ্রহণে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত এআই হ্যাকাথন ফর পিপল উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সায়েম হোসেন ও তার দল। সায়েম বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যায়নরত আছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রিয়াদের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে তার তার উদ্ভাবিত দ্য ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্টটি প্রথম হয়েছে। এতে পুরস্কার হিসেবে ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল পেয়েছেন তিনি।
জানা যায়, সায়েমের এ প্রজেক্টটি ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ (থ্রিডি প্রিন্টিং) প্রযুক্তির মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা ও কোরআনিক শিক্ষা গ্রহণ সহজ করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। প্রচলিত ব্রেইল বইয়ের ডটগুলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র হওয়ায় সেগুলো শনাক্ত করা এবং শেখা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য কঠিন। ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অনেক শিক্ষার্থী ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ ছাড়া ইংরেজি ভাষার ব্রেইল পাঠ্যসামগ্রী ও গ্রন্থাগার তুলনামূলক সমৃদ্ধ হলেও আরবি, বাংলা ও উর্দুর মতো নন ল্যাটিন লিপিভিত্তিক ভাষার ব্রেইল রিসোর্সের ঘাটতি রয়েছে। এমন বাস্তবতায় ‘দ্য ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্ট’ প্রচলিত ব্রেইল পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করে বিশেষত আরবি ভাষা ও কোরআনিক শিক্ষা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কাছে আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নিয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন সায়েম হোসেন বলেন, বিশ্বের ২৩টি আরবিভাষী দেশ এবং ৫৭টি মুসলিমপ্রধান দেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার চিন্তা থেকেই এ উদ্ভাবনের উদ্যোগ নেই। আমার লক্ষ্য, যেসব শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ব্রেইল পাঠ্যসামগ্রী নেই, তাদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা। বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার সুবাদে প্রতিবন্ধিতা ও পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহ থেকেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছি।
নিজের সুপারভাইজার ড. এ কে এম আজাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে সায়েম জানান, ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজাদের সুপারভিশন আমাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। এ ছাড়া আমার দলের সদস্য ইয়াকুব শাকিলও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, বিভাগের শিক্ষার্থীরা গবেষণায় ভালো করছে। সায়েমের এ অর্জন প্রশংসনীয় এবং আশা করি, ভবিষ্যতে সে আরও ভালো করবে। বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে গবেষণায় কাজ করছেন। ইতোমধ্যে বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষক যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবে গেছেন এবং ছয় থেকে আটজন শিক্ষক জিএসটিতে রয়েছেন। সব মিলিয়ে বিভাগের শিক্ষার্থীরা গবেষণায় ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
