এসআইআর প্রসঙ্গে ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ রুখতে দমন-পীড়ন চালিয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার! এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। যদিও এমন অভিযোগ নস্যাৎ করলেন আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করব না বলেও তিনি বলেন, রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞরা ‘স্ববিরোধী’। ঠিক কী বলতে চাইছেন রুবিও?
গত কয়েক সপ্তাহে যুবাদের দল সিজেপি, কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের আন্দোলন রুখতে দিল্লিতে ছাব্বিশ হাজার আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এছাড়াও আগ্রাসী ভূমিকায় ছিল দিল্লি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা বহু ক্ষেত্রে জেন জি-র শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ। আন্দোলন রুখতে বন্ধ করে দেওয়া হয় রাজধানীর মেট্রো, ইন্টারনেট পরিষেবা। আটক ও গ্রেপ্তার করা হয় অসংখ্য আন্দোলনকারীকে। সরকারি এই ‘দমন-পীড়নে’র নিরেপক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন রাষ্ট্রসংঘের ২০ জন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ। রুবিও তাঁদের সঙ্গে একমত নন।
এই বিষয়ে মার্কিন বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে তিনি মতামত দেবেন না। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং মানুষের নিজের মত প্রকাশ করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি বলেন, “(ভারত) একটি গণতন্ত্র। সেখানে নির্বাচন হয়। তাই আমি তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে কোনও মতামত দেব না।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও সহিংস অস্থিরতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, একথা জানিয়ে রুবিও বলেন, “জনসমক্ষে ভিন্নমত প্রকাশ করা গণতান্ত্রিক সমাজের একটি বৈশিষ্ট্য।” বিশেষভাবে ভারতের কথাই বলছেন না বলেও জানান তিনি।
রুবিও বলেন, “ইউরোপে যে ধরনের দাঙ্গা দেখা যাচ্ছে— যেখানে মানুষ ভাঙচুর চালাচ্ছে, জোর করে কোথাও ঢুকে পড়ছে এবং ভবন পুড়িয়ে দিচ্ছে। আমি সেগুলোর কথা বলছি না।” এরপরেই তিনি যোগ করেন, “মানুষ যে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছে— আমি শুধু ভারতের কথা বলছি না, বিশ্বের যে কোনও দেশের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। তা এই ইঙ্গিত দেয় যে, সেই দেশে রাজনৈতিক আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে এবং সেখানে মতপার্থক্যও বিদ্যমান।” কার্যত মার্কিন বিদেশ সচিব ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানী’ অবস্থান নিলেন।
