দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ আর মহকুমা থাকবে না। নতুন জেলা হবে। সুন্দরবন অঞ্চলের বাসিন্দাদের সুবিধার্থে সমস্ত দ্বীপগুলোকে জুড়ে ‘সুন্দরবন মডেল’ গড়বে রাজ্য সরকার। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ থেকেই এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, সিএএ শংসাপত্র দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে সময়ও বেঁধে দিলেন তিনি।
কাকদ্বীপ মহকুমার অধীনে রয়েছে কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও সাগর— এই চারটি ব্লক। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সুন্দরবন বিষয়ক দফতরের উদ্যোগে সুন্দরবনের মানুষের সার্বিক উন্নতিকল্পে বিশেষ জনপরিষেবা প্রদান কর্মসূচি ছিল শনিবার। কাকদ্বীপ স্টেডিয়ামে ওই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামিদিনে কাকদ্বীপ হবে নতুন জেলা। সে জন্য খানিক সময় লাগতে পারে। কিন্তু আলাদা জেলা হবেই। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রশাসনিক ভাবে যখন বিভক্ত করা হবে... দু’বছর পরে হলেও কাকদ্বীপকে জেলা করব। সুন্দরবনকে মডেল করব এবং সবগুলো দ্বীপকে জুড়ে দেব।’’
সমগ্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার উন্নতিকল্পে বেশ কিছু ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বতন সরকারকে এ নিয়ে নিশানাও করেন তিনি। অভিযোগ করেন, অর্থ বরাদ্দ করেও ব্যয় করা হত না। আর যতটা অর্থ ব্যয় হত, সেখান থেকে সিংহভাগ টাকা চলে যেত শাসকদলের নেতাদের পকেটে। মুখ্যমন্ত্রী একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন শনিবার। তিনি বলেন, ‘‘গত সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। কাজ করেছিল মাত্র ২০০ কোটির। তার ৮০ ভাগ টাকা আবার চুরি হয়ে গিয়েছে! আমরা আট মাসের বাজেটে ১২০০ কোটি টাকা আপনাদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ করেছি। প্রথম দফায় ৫৫৩টি কাজের টেন্ডার হয়েছে। বর্ষা চলে গিয়েছে। এ বার সবগুলো কাজের শুভ সূচনা হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় আরও ২৬৫০টি কাজ হবে।’’ তিনি জানিয়েছেন, সুন্দরবনে বাঁধ মেরামতির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে তাঁর সরকার। ২০২৯ সালের মধ্যে মুড়িগঙ্গা সেতু উদ্বোধন করবেন তিনি।
সিএএ সার্টিফিকেট প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার করে দেন অনুপ্রবেশকারী এবং শরণার্থীর মধ্যে ফারাক। তিনি জানান, যাঁরা জীবন এবং ধর্ম বাঁচাতে এ দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা কোনও ভাবে অনুপ্রবেশকারী নন। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘বাংলাদেশ থেকে যাঁরা প্রাণ আর ধর্ম বাঁচাতে এসেছেন, তাঁরা কিন্তু অনুপ্রবেশকারী নন। তাঁরা শরণার্থী। তাঁদের সবাইকে... ডিএম দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং এসডিও কাকদ্বীপকে বলে গেলাম, অতি দ্রুত সিএএ সার্টিফিকেট দিতে। আমি ডিসেম্বরের ১০ তারিখের পর সাগরে আসছি। তার পর ১০ জানুয়ারি আসব সাগরমেলার প্রস্তুতি দেখতে। তার আগে সকল শরণার্থী যাতে সিএএ সার্টিফিকেট পান, তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব ডিএম এবং এসডিও-কে নিতে হবে। হোম সেক্রেটারি ম্যাডাম এটা দেখে নেবেন। সার্টিফিকেট পাওয়ার পর জানুয়ারি মাসে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনও করতে পারবেন ওই ব্যক্তিরা। কোনও সমস্যা হবে না।’’
আবার দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে পূর্বতন শাসকদলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় নতুন করে মামলা হবে বলে জানিয়েছেন। তিনি নির্যাতিতদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘নতুন করে এফআইআর করুন। সবগুলোকে জেলে ঢোকাব। আমি কথা দিয়ে গেলাম, ’২১-এর ভোটের পরে যারা অত্যাচার করেছে, তাদের একজনকেও ছাড়ব না। আর যারা আমফান, মনরেগার টাকা লুট করেছে, তাদেরও ছাড়ব না।’’
