শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ নিয়ে ক্ষোভ, পূর্বনির্ধারিত স্থানে নির্মাণের দাবি
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহরের কাছাকাছি পূর্বনির্ধারিত স্থানে নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের কোটাপাড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে শরীয়তপুর সদর, নড়িয়াসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অংশ নেন। এ সময় বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের স্থান নির্ধারণে জেলার মানুষের যাতায়াত, শিক্ষা ও নাগরিক সুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের দাবি, জেলা শহরের কাছাকাছি শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়টি নির্মাণ করা হলে জেলার সব উপজেলার শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক হবে।
আরও পড়ুন
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে স্থানীয়রা জানায়, ২০২৩ সালে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাস হওয়ার পর সদর উপজেলার ডোমসার ও নড়িয়া উপজেলার নশাসন এলাকাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি উপাচার্য নিয়োগের পর ওই স্থানগুলো বাদ দিয়ে ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়। ডামুড্যা উপজেলার প্রস্তাবিত স্থানটি জেলার এক প্রান্তে হওয়ায় অন্য উপজেলা থেকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়বে বলে আশংকা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের আবাসন, চিকিৎসা, টিউশন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পুরো জেলার মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়টি এমন জায়গায় হওয়া উচিত, যেখানে জেলার সব উপজেলার শিক্ষার্থীরা সহজে যাতায়াত করতে পারবে। জেলা শহরের কাছে হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।
আরও পড়ুন
আজিজুল হক নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রে শুধু একটি এলাকার কথা চিন্তা করলে হবে না, পুরো জেলার মানুষের সুবিধা বিবেচনা করতে হবে। জেলা শহরের কাছাকাছি হলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্যও সুবিধা হবে। আমরা চাই, পূর্বনির্ধারিত স্থানগুলো পুনর্বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়টি শহরের কাছে নির্মাণ করা হোক।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন খান বলেন, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টি দূরবর্তী এলাকায় হলে অনেক শিক্ষার্থী যাতায়াত ও আবাসন সমস্যায় পড়বেন। তাই জেলা শহরের কাছে মহাসড়কের পাশে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
বিধান মজুমদার/রিফাত/
আরও পড়ুন
টিএসসিতে গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৪ নেতা আটক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিতের অনশন থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত সোয়া ১২টার দিকে তাদেরকে অনশনস্থল থেকে আটক করা হয়। বিষয়টি নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।
আটক ছাত্রলীগ নেতারা হলেন- নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখার সাবেক সহসম্পাদক ফেরদৌস, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, হলের পাঠচক্র সম্পাদক মনিরুজ্জামান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের সহসভাপতি আকরাম গাজী হৃদয়।
আরও পড়ুন
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাওন বলেন, ‘দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দিতে তারা এখানে বসেছিল। আমরা সচেতন শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয় জানতে পেরে পুলিশে সোপর্দ করেছি। তারা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্বে ছিলেন।’
এ দিকে, নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আরও পড়ুন
এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন ৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিতরা।
আরিফ জাওয়াদ/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বিদায় নিলেন রাবি শিক্ষার্থী
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৬ এএম
আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা ছবি: খবরের কাগজ
-->সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার ৪ দিন পর মৃত্যুর কাছে হার মানলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টা ৭ মিনিটে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমি বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করছিলাম। পরে কিছু সময়ের জন্য হাসপাতালের বাইরে আসি। এর কিছুক্ষণ পর চেসির সহপাঠী রিসার্চ চাকমা আমাকে জানান, চিকিৎসকরা আনুষ্ঠানিকভাবে চেসিকে মৃত ঘোষণা করেছেন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্রও দেওয়া হয়েছে। মরদেহ ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হবে নাকি সরাসরি তার গ্রামের বাড়িতে যাবে এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। তবে এই মুহুর্তে তার পরিবারের একটু সময় লাগবে।’
আরও পড়ুন
এর আগে গত সোমবার রাজশাহীর বাগমারায় এক সহপাঠীর বাসায় পূজার দাওয়াতে যান চেসি ও তার আরেক সহপাঠী। সন্ধ্যায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে দুর্গাপুর এলাকায় একটি দ্রুতগতির ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান চেসি।
পরে তাকে প্রথমে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। পরবর্তীতে জরুরি উন্নত চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চেসি ত্রিপুরাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন
পরের দিন মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে রামেক হাসপাতাল হোস্টেলের পাশের মাঠ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে আনা হয়।
শাকিবুল হাসান/অলি/
আরও পড়ুন
‘এটাও ইংলিশের’ বলে শিক্ষার্থীকে মারধর, ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
আহত সাকিব। ছবি: সংগৃহীত
-->‘আমি তো এই ঝামেলার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলাম না। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী যেভাবে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে হাঁটাচলা করে, আমিও সেভাবেই হাঁটছিলাম।’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত সাকিব তার ফেসবুক পোস্টে এভাবেই নিজের ওপর হামলার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'এটাও ইংলিশের, এটাকে ধর' বলেই আঘাত করা শুরু করে। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমার অপরাধটা কী ছিল?’
গত ১৪ অক্টোবর (বুধবার) তুচ্ছ ঘটনা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আহত হন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব। কিছুটা সুস্থ হয়ে সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক ফেসবুক পোস্টে সেদিন রাতের ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে সাকিব দাবি করেন, সংঘর্ষের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। বরং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে তিনি নিজের বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারামারি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরে কলা ভবনের পেছনে একদল শিক্ষার্থী তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
তার ভাষ্য, হামলাকারীদের একজন তাকে ‘এটাও ইংলিশের, এটারে ধর’ বলে শনাক্ত করার পর তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁকে ড্রেনের ওপর ফেলে মাথায় রড বা স্ট্যাম্প দিয়ে পরপর তিনটি আঘাত করা হয়। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ অবস্থাতেই তার সারা শরীরে রড, স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করা হয়। এমনকি জ্ঞান ফেরার পরও তাঁকে লাথি মারা হয় বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
সাকিবের অভিযোগ, হামলার সময় উপস্থিত কেউ কেউ তাকে ঘটনাস্থলে না থাকার কথা বললেও মারধর থামেনি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়ার সময়ও তিনি হামলাকারীদের কাছে জানতে চান, কেন তাকে এভাবে মারধর করা হয়েছে। তাঁর দাবি, উত্তরে তাঁকে বলা হয়েছিল, ‘তোর হাতে রড ছিল কেন?’ তবে তাঁর বক্তব্য, তাঁর হাতে কোনো রড ছিল না।
আরও পড়ুন
পোস্টে নিজের সঙ্গে সহপাঠী, সিনিয়র ও জুনিয়রদের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সাকিব প্রশ্ন করেন, কারও সঙ্গে শত্রুতা না থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে এভাবে হামলার শিকার হতে হলো। তিনি লেখেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়ে তোমরা আমার জীবনটা এলোমেলো করে দিয়েছ। আমার পুরো পরিবারের সুখ-শান্তি কেড়ে নিয়েছ তোমরা।’ একই সঙ্গে অন্যদের পরিবারের কথা বিবেচনা করে এমন ঘটনা যেন আর কারও জীবনে না ঘটে, সেই প্রত্যাশা জানান তিনি।
এর আগে সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে চলছিল নজরুল প্রিমিয়ার লীগ (এনপিএল) ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। পাশেই ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ফুটবল খেলছিলেন। এসময় খেলার মাঠের বাউন্ডারির ভেতরে বারবার ফুটবল চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টুর্নামেন্টের আয়োজক ও বাউন্ডারির কাছে ফুটবল খেলতে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে খেলা শেষ হওয়ার পর বিরোধ মীমাংসায় দুই পক্ষ একসঙ্গে হলে আবারও বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীরা অগ্নিবীণা হলের সামনে, কলা ভবনের সামনে এবং পেছনে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে ৬ জন শিক্ষার্থী আহত হন। আহত ৬ শিক্ষার্থীর চারজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আরও দুইজনকেও মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
মো. তাসনিম হক রাফি/এসএন
আরও পড়ুন
নোবিপ্রবিতে আগামী অর্থবছর থেকে মেধাবৃত্তি চালুর আশ্বাস উপাচার্যের
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->আগামী অর্থবছর থেকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রতিটি বিভাগ থেকে অন্তত দুজন শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড.গোলাম রব্বানী।
ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য স্বতন্ত্র বৃত্তি চালু হয়নি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি)। প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি এ ধরনের কোনো মেধাবৃত্তি। তবে আগামী অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ থেকে অন্তত দুজন শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য। তার এ আশ্বাসে নতুন করে আশার আলো দেখছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, মেধাবৃত্তি চালু হলে ভালো ফলাফলের স্বীকৃতির পাশাপাশি আর্থিকভাবেও উপকৃত হবেন।
আরও পড়ুন
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। তাদের বড় একটি অংশ নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসেন। এ অবস্থায় ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তি পেলে পড়াশোনার খরচ মেটানো সহজ হবে। পাশাপাশি মেধার স্বীকৃতি হিসেবে এটি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থী লামিয়া বলেন, ‘মেধাবৃত্তি শুধুমাত্র একটি আর্থিক সহায়তা নয়, এটা শিক্ষার্থীদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা হিসেবেও কাজ করে। আমরা দেখি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই নিম্নবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। প্রশাসন থেকে যদি এই সহযোগিতাগুলো পাই, তাহলে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া আমাদের জন্য আরও সহজ হবে।’
আরও পড়ুন
এদিকে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সেমিস্টারভিত্তিক আর্থিক বৃত্তি ও বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ রয়েছে। নোবিপ্রবিতে অবশ্য প্রতি সেমিস্টারে ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি বিভাগের প্রথম পাঁচজন শিক্ষার্থীর কোর্স রেজিস্ট্রেশন ফির অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ অর্থ সময়মতো পাওয়া যায় না। কখনো দুই থেকে তিন সেমিস্টার পর তা ফেরত দেওয়া হয়। তবে নিজেদের জমা দেওয়া ফির অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা স্বতন্ত্র মেধাবৃত্তির বিকল্প হতে পারে না এমনটাই মনে করেন শিক্ষার্থীরা।
আরেক শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসাইন বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটা সম্মানজনক মেধাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হোক। আমাদের নামে মাত্র কোর্স রেজিস্ট্রেশন ফি ফেরত দেওয়া হয়, যেটা আবার দুই-তিন সেমিস্টার পরপর পাচ্ছি।’
মেধাবৃত্তি চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আগামী অর্থবছর থেকে মেধাবৃত্তি চালুর চেষ্টা করব। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউট রয়েছে। প্রতিটি বিভাগ থেকে একজন বা দুজন শিক্ষার্থীকে হলেও এ বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেব। বৃত্তির অর্থের পরিমাণ যতটুকুই হোক, শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাবৃত্তি চালু করার চেষ্টা করব।’
উপাচার্যের এ আশ্বাস বাস্তবায়িত হলে নোবিপ্রবির মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ভালো ফলাফলের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিও পাবেন। একই সঙ্গে মেধাবৃত্তি চালু হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালো ফলাফল অর্জন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাউসার আহমেদ/রিফাত/
