কালবেলা · খেলাধুলা
ব্যালন ডি’অর জয়ে চমকপ্রদ ইঙ্গিত দিচ্ছে জার্সির ছবি!
২২/১০/২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের নতুন রাজা কে হবেন, তা জানতে আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। ব্যালন ডি’অর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে আলোচনা, জল্পনা ও নানা ধরনের তত্ত্ব। এরই মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখের একটি ছবি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল। ছবিতে ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে দেখা গেছে নিখুঁত টাক্সেডো পরা অবস্থায়। আর সেই ছবিই প্রশ্ন তুলেছে- তাহলে কি ব্যালন ডি’অর জিততে যাচ্ছেন কেইন?
জার্মান ক্লাবটির অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিটি দ্রুত আলোচনায় চলে আসে। পুরস্কার ঘোষণার আগে এমন সার্জির সাজে কেইনের উপস্থিতি দেখে অনেক সমর্থক মনে করেন, বায়ার্ন হয়তো পুরস্কারজয়ীর নামের ইঙ্গিতে দিয়ে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম দিকের প্রতিক্রিয়ায় কেউ কেউ ছবিটিকে সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম ফাঁস হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখেন।তবে ছবিটির পেছনের বাস্তবতা ভিন্ন।
ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম গোলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বায়ার্নের এই পোস্ট ব্যালন ডি’অর নিয়ে কোনো গোপন বার্তা ছিল না। বরং ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নস লিগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে এটি ছিল প্রচারণামূলক আয়োজন।
ব্যালন ডি’অরের ইঙ্গিত নয়, চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রচারণা:
বায়ার্ন মিউনিখের পোস্টে কেইনের টাক্সেডো পরা ছবির সঙ্গে লেখা ছিল, ‘দ্য শো ইজ অ্যাবাউট টু বিগিন’- অর্থাৎ, ‘শো শুরু হতে যাচ্ছে’। আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এই ছবি প্রকাশ করে ক্লাবটি মূলত গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় লড়াইয়ের আবহ তৈরি করতে চেয়েছিল।
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক কেইন ইউরোপের বড় ম্যাচগুলোতে বায়ার্নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আর্সেনালের বিপক্ষে তার অতীত রেকর্ডও বেশ উল্লেখযোগ্য। লন্ডনের ক্লাবটির বিপক্ষে ২২ ম্যাচে ১৫ গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার। ফলে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে তাকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালানোর যথেষ্ট কারণ ছিল বায়ার্নের।
শেষ পর্যন্ত বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে একটি গোলও করেছিলেন কেইন। যদিও তা ছিল পেনাল্টি থেকে। এই গোলে জয়ের সুবাসও পাচ্ছিল তারা; কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডেকলান রাইস গোল করে বায়ার্নকে জয় বঞ্চিত করেন।বাভারিয়ান ক্লাবটির ড্রেসিংরুমেও বড় ইউরোপীয় ম্যাচে কেইনের কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে পূর্ণ সচেতনতা রয়েছে। আগের আসরের চ্যাম্পিয়নস লিগেও লন্ডনের দলটির বিপক্ষে গোল করেছিলেন তিনি। তাই এবারও আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তার নেতৃত্ব ও গুরুত্বকে সামনে আনতে চেয়েছে ক্লাবটি।
কেইনের টাক্সেডো পরা ছবিটি ছিল বড় আয়োজনের লালগালিচার অনুষ্ঠানের সঙ্গে মানানসই এক নান্দনিক উপস্থাপনা। ব্যালন ডি’অর জয়ের ইঙ্গিত দেওয়ার পরিবর্তে এর উদ্দেশ্য ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ানো।
ছবিটির পেছনে হলিউডের মতো আয়োজন:
কেইনের এই আলোচিত ছবির উৎস জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০২৩ সালের আগস্টে, যখন তার বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। জার্মান টেলিভিশন চ্যানেল স্পোর্ট-১ জানিয়েছিল, ছবিগুলো তোলা হয়েছিল মিউনিখের ঐতিহাসিক সিনেমা হল ফিল্মথিয়েটার আম জেন্ডলিঙ্গার টরে।
উদ্দেশ্য ছিল, হলিউডের চলচ্চিত্রের মতো একটি উপস্থাপনা তৈরি করা।কেইনের দলবদল ঘিরে জটিলতার কারণে ওই প্রচারণামূলক ভিডিও তৈরির সময়সূচিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। জার্মান সংবাদমাধ্যম আবেন্ডৎসাইটুংয়ের সে সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুরুতে কেইনের পরিবর্তে তার স্টান্ট ডাবলকে দিয়ে দৃশ্য ধারণ করতে হয়েছিল। পরে ডিজিটাল সম্পাদনার মাধ্যমে সেই দৃশ্যে কেইনকে যুক্ত করা হয়।অর্থাৎ, এখন আলোচনায় থাকা ছবিটি নতুন করে তৈরি করা ব্যালন ডি’অরকেন্দ্রিক কোনো আয়োজনের অংশ নয়। এর শিকড় কেইনের বায়ার্নে যোগ দেওয়ার সময়কার সেই প্রচারণামূলক কাজের মধ্যে।
ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এখনো অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী:
বায়ার্নের ছবিটি ঘিরে আলোচনা তৈরি হলেও ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে পূর্বাভাস এখনো উন্মুক্ত। এবারের প্রতিযোগিতায় লামিনে ইয়ামালের মতো উদীয়মান তারকার পাশাপাশি কিলিয়ান এমবাপের মতো প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়ও আলোচনায় রয়েছেন। তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন হ্যারি কেইনও।পুরস্কার ঘোষণার কয়েক দিন আগে ফ্রান্স ফুটবল ও কিকার সাময়িকীর মতো আন্তর্জাতিক প্রকাশনার বিশ্লেষকেরা পুরো মৌসুমে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও অর্জন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বুন্দেসলিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগে কেইনের গোল করার ধারাবাহিকতা তাকে শীর্ষস্থানগুলোর দাবিদার হিসেবে শক্ত যুক্তি দিচ্ছে।তবে ব্যালন ডি’অরের প্রতিযোগিতা শুধু গোলসংখ্যা কিংবা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও দলীয় অর্জন, পুরো মৌসুমে তাদের অবদান এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের পারফরম্যান্স- সবকিছুই আলোচনায় রয়েছে। গোল করার ধারাবাহিকতা কেইনের অন্যতম বড় শক্তি। অন্যদিকে, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের গণমাধ্যমে প্রভাব এবং শিরোপা জয়ের অর্জনও বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র : গোল.কম
মূল প্রতিবেদনে যান ↗