অধ্যাপক গোলাম আযমের দ্বাদশ শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তাঁর মাগফিরাত কামনা করে বলেছেন, ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠন, মানুষের অধিকার আদায় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রস্তাবনায় তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
অধ্যাপক গোলাম আযমের ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ এবং দেশ গঠনে অবদান জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
আগামীকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের দ্বাদশ শাহাদাতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে তাঁর মাগফিরাত কামনা ও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ডা. শফিকুর রহমান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্বনন্দিত ইসলামী চিন্তাবিদ, অসংখ্য বইয়ের লেখক, ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমকে বাংলার জমিনে পাঠিয়ে মহান আল্লাহ দ্বীনের দাওয়াত প্রসারের দায়িত্ব পালন করিয়েছেন। শত প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তি ও জুলুমের শিকার হয়েও মাথানত না করে তিনি দাঈ হিসেবে জীবন অতিবাহিত করেছেন। মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছি, তাঁর পরিচালিত সব ভালো প্রচেষ্টা কবুল করে ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযমের জীবনকাল ছিল শিক্ষা ও বর্তমান সময়ের জন্য গবেষণার বিষয়। রাজনৈতিক জীবনে তিনি মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন এবং বাতিলের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিলেন। বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন, রাজনৈতিক জীবন ও পেশাগত জীবনে তিনি স্বাক্ষর রেখে গেছেন। ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও দেশ গঠনে তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় অধ্যাপক গোলাম আযম ছাত্রজীবনে ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি তমদ্দুন মজলিসে যোগ দিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। পূর্ব পাকিস্তান এবং বর্তমান বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও মানোন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া এই ইসলামী আন্দোলনের দাঈ ফ্যাসিস্ট স্বৈরশাসক ও তাদের দোসরদের নানা অত্যাচার-নির্যাতন ও অপবাদ সহ্য করেছেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফর্মুলা’র রূপকার অধ্যাপক গোলাম আযম। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তিনি ১৯৮৩ সালে সর্বপ্রথম এ ফর্মুলা উপস্থাপন করেন। ১৯৯৬ সালে তাঁর পূর্ববর্তী প্রস্তাব অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সংবিধানে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফর্মুলা’ সংযোজন করে। তাঁর প্রণীত এ ফর্মুলা শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ পৃথিবীর অনেক দেশ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযমের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমৃদ্ধ হয়েছে। উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের উর্বর ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। তিনি ১৯৫৪ সালের এপ্রিলে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী (মুত্তাফিক) হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালের জুনে তিনি রাজশাহী বিভাগীয় জামায়াতের সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। এর এক বছর পর তাঁকে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবং রাজশাহী বিভাগীয় জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৬২ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯-৭১ সেশনে তিনি জামায়াতে ইসলামী পূর্ব পাকিস্তানের আমির নির্বাচিত হন। সবশেষে ২০০০ সালের ডিসেম্বরে মজলিসে শূরার কাছে বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমিরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযমের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কারাভোগ ও জুলুমের শিকার হওয়ার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ৯২ বছরের জীবনে তিনি পাঁচবার কারাভোগ করেছেন। ভাষা আন্দোলনের সময় দুইবার, ১৯৬৪ সালে একবার এবং ১৯৯২ সালে একবার কারাভোগ করেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি তিনি গ্রেপ্তার হন। কারাগারের প্রিজন সেলে থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর তিনি ইন্তেকাল করেন।
