- Anandabazar
- Ananda Utsav
- Myths
- The Tradition of Offering Two Hilsa Fish to Goddess Lakshmi and Saraswati dgtl
শুধু ভোগ নয়, ইলিশের বিয়েও! লক্ষ্মী-সরস্বতীর পুজোয় জোড়া মাছ ঘিরে কোন লোকাচার?
দুই দেবীর পুজোতেই জোড়া ইলিশ নিবেদনের রীতি! ভোগের এই বৈচিত্র্যের নেপথ্যে রয়েছে বাংলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, স্থানীয় বিশ্বাস, লোকসংস্কৃতি এবং দীর্ঘদিনের আচার-অনুষ্ঠান।
আনন্দ উৎসব ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৫৪
০১ / ১১
লক্ষ্মীপুজোর দিন বাঙালির বেশ কিছু বাড়িতে জোড়া ইলিশ নিবেদনের রীতি রয়েছে। মূলত পূর্ববঙ্গের বাঙালি, অর্থাৎ বাঙালদের বাড়িতেই এই প্রথা বেশি দেখা যায়। দেবীর আরাধনায় ভোগের এই বিশেষ আয়োজন বহু দিন ধরেই চলে আসছে।
০২ / ১১
লক্ষ্মীপুজোর ভোগে অবশ্য বৈচিত্র্য রয়েছে। এ পার বাংলার বাঙালি, অর্থাৎ ঘটিদের বাড়িতে কোজাগরী পূর্ণিমায় সাধারণত দেবী লক্ষ্মীকে খিচুড়ি, লাবড়া, আলুর দম, পাঁচ রকমের ভাজা, লুচি-সহ নানা পদ নিবেদন করা হয়। পারিবারিক রীতি মেনেই সাজানো হয় দেবীর ভোগের থালা।
০৩ / ১১
অন্য দিকে, বাঙালদের বাড়িতে খিচুড়ি কিংবা লুচির পাশাপাশি দেবী লক্ষ্মীর ভোগে থাকে জোড়া ইলিশ। দুই বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির এই পার্থক্য লক্ষ্মীপুজোর ভোগেও ধরা পড়ে। একই দেবীর আরাধনা হলেও ভোগের আয়োজনে ফুটে ওঠে নিজস্ব পরম্পরা।
০৪ / ১১
বছরের এই সময় পর্যন্ত বাজারে ভাল ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। তাই মরসুমের শেষ ইলিশ দেবী লক্ষ্মীকে ভোগ হিসেবে নিবেদন করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। লোকবিশ্বাসে, বছরের শেষ ইলিশটি দেবীর উদ্দেশে উৎসর্গ করার এই প্রথাই আজও বাঙালদের বহু বাড়িতে বজায় রয়েছে।
০৫ / ১১
বাজার থেকে ইলিশ কিনে এনে তা ধুয়ে সিঁদুর লাগিয়ে জোড়া মাছ দেবী লক্ষ্মীকে নিবেদন করা হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই রীতি চলে আসছে বাঙাল বাড়িতে। তবে কোজাগরীর উপবাসের পরে খিচুড়ি-লাবড়া, না কি ইলিশের ঝোল, কোনটি বেশি প্রিয়, সেই তর্ক বাঙাল ও ঘটিদের মধ্যে চলতেই থাকবে!
০৬ / ১১
সাধারণত এই মাসের পর থেকে সরস্বতীপুজো পর্যন্ত বাজারে ইলিশ মাছ আর সহজে পাওয়া যায় না। এই সময় ইলিশ ধরলে পরিণত মাছ মেলার সম্ভাবনাও কম থাকে। পরিণত ইলিশ পাওয়ার জন্য সরস্বতীপুজো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় বলেই প্রচলিত বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাসের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে বছরের প্রথম ইলিশ ঘিরে নানা আচার।
০৭ / ১১
সরস্বতীপুজোর দিন জোড়া ইলিশ বরণ পূর্ববঙ্গীয়দের অন্যতম লোকাচার। শুধু মাছ কেনা বা রান্না নয়, এই দিনটিকে ঘিরে কিছু বাড়িতে রয়েছে ইলিশ মাছের বিয়ের রীতিও। সরস্বতীপুজোর সঙ্গে সরাসরি যোগ না থাকলেও এই প্রথা পূর্ববঙ্গের পারিবারিক সংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসের অঙ্গ হয়ে উঠেছে।
০৮ / ১১
সরস্বতীপুজোর সকালে কাঁচা হলুদ মেখে স্নান করার পর বাজার থেকে ইলিশ মাছ নিয়ে আসার রীতি রয়েছে কিছু বাঙাল বাড়িতে। ধান, দূর্বা, তেল, সিঁদুর ও কাঁচা হলুদ দিয়ে মাছটি বরণ করা হয়। উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনির মধ্যে কুলোয় সাজিয়ে সেই মাছ বাড়িতে প্রবেশ করানো হয়। এ ভাবেই আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় জোড়া ইলিশ বরণের পর্ব।
০৯ / ১১
ইলিশ বরণের আয়োজনেও রয়েছে পারিবারিক বৈচিত্র্য। কিছু পরিবারে জোড়া ইলিশের সঙ্গে রাখা হয় দুটি গোটা বেগুন ও লাউয়ের ডগা। আবার কোথাও জোড়া মাছের বদলে আনা হয় একটি ইলিশ। সেই মাছটিকে নারীর রূপে বরণ করে একটি নোড়ার সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার রীতিও প্রচলিত রয়েছে।
১০ / ১১
শীতল ষষ্ঠী, অর্থাৎ সরস্বতীপুজোর পরের দিন ঘটিদের বাড়িতে গোটা সেদ্ধ রান্না করার চল রয়েছে। তেমনই বাঙালদের বাড়িতে জোড়া ইলিশ বরণের পর মাছ রান্নার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। ফোড়ন ও অন্যান্য তরকারি একসঙ্গেই কড়াইতে দিতে হয়। এই পদে কোনও গুঁড়ো মশলা ব্যবহার করা হয় না। কাঁচা হলুদ ও কাঁচা লঙ্কা দিয়েই রান্না করা হয় মাছটি।
১১ / ১১
লক্ষ্মীপুজোয় জোড়া ইলিশ নিবেদনের মতো সরস্বতীপুজোয় ইলিশ বরণের নেপথ্যেও রয়েছে একটি লোককথা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুজোয় বছরের শেষ ইলিশ দেবী লক্ষ্মীকে নিবেদন করা হয়। আর সরস্বতীপুজোয় বছরের প্রথম ইলিশ দেবী সরস্বতীকে উৎসর্গ করার পরেই তা খাওয়া শুরু করেন বাঙালিরা। বছরের শেষ ও প্রথম ইলিশকে ঘিরে এই দুই রীতির মধ্যে দিয়ে ধরা পড়ে বাঙালির উৎসব, খাদ্যসংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসের নিবিড় যোগ।
পরবর্তী গ্যালারি
সাজ বলিউডি কিন্তু বাজছে ‘আইলো উমা বাড়িতে’! বাংলা গানে সোনমের বাঙালিয়ানা
আনন্দ উৎসব
শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:২৩
০১ / ১২
বাঙালির দুর্গাপুজো আর অবাঙালিদের নবরাত্রি। উৎসবের রীতি আলাদা হলেও আনন্দের সুরে কোথাও যেন মিল রয়েছে। আর সেই মিলই যেন ধরা পড়ল সোনম কপূরের সমাজমাধ্যমের ছবিতে। নবরাত্রির সাজে একের পর এক ছবি ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী।
০২ / ১২
গোলাপি ও কমলা রঙের মিশেলে ঐতিহ্যবাহী শাড়ি, কানে সোনালি ঝুমকো। সোনমের সাজে ছিল সাবেকিয়ানার ছোঁয়া। ছবির সঙ্গে ‘দুগ্গা মা আসছে’ গান জুড়ে নবরাত্রির আবহে মিশিয়ে দিলেন বাংলার আগমনি।
০৩ / ১২
সাদা-সোনালি পোশাক, চোখে টানা কাজল আর সোনালি অলঙ্কারে নজর কাড়লেন সোনম। ছবির সঙ্গে বেছে নিলেন ‘আইলো উমা বাড়িতে’। মনামী ঘোষের নাচ ও অন্তরা নন্দীর কণ্ঠে জনপ্রিয় হওয়া গানটি মনে করিয়ে দিল বাঙালির উমা-আগমনের আনন্দ।
০৪ / ১২
মুম্বইয়ের সঙ্গে বাংলার যোগ নতুন নয়। আগে বিদ্যা বালানকে দেখা গিয়েছে জনপ্রিয় বাংলা ছবির সংলাপ, গানে মজতে। পুজোর আমাজে একই পথে হাঁটলেন সোনমও।
০৫ / ১২
লাল চুড়িদার, কপালে লাল টিপ, চুলে গোলাপ আর কানে বড় ঝুমকো। সাজে উজ্জ্বল সোনমের ছবির সঙ্গে শোনা গেল ‘তুই তো নিলি এন্ট্রি’। বাপি লাহিড়ীর জনপ্রিয় এই গানের বাংলা সংস্করণই বেছে নিলেন অভিনেত্রী।
০৬ / ১২
সাদা শাড়ি আর গোলাপি ব্লাউজে সোনমের সাজে ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। কানের দুল ও কপালের টিকলিতে লুকটি হয়ে উঠেছিল আরও আকর্ষণীয়। ছবির সঙ্গে মোনালি ঠাকুরের ‘দুগ্গা এলো’ গান জুড়ে বাংলার পুজোর আমেজকে সঙ্গী করলেন তিনি।
০৭ / ১২
আকাশ রঙা কুর্তি, সবুজ ওড়না আর সোনালি অলঙ্কারে সোনমের সাজে ছিল রাজকীয় মেজাজ। ছবির সঙ্গে মোনালি ঠাকুরের ‘আমার দুগ্গা মা’ গান বেছে নিলেন অভিনেত্রী। নবরাত্রির সাজে বাংলা দুর্গাপুজোর আবেগ মিশিয়ে দিল এই গান।
০৮ / ১২
গোলাপি, কমলা, সাদা কিংবা লাল—সোনমের নবরাত্রির পোশাকে রঙের বৈচিত্র নজর কাড়ার মতো। প্রতিটি সাজেই ছিল পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না ও পরিমিত সাজের ছোঁয়া। উৎসবের ছবি আর বাংলা গানের মেলবন্ধন তৈরি করেছে অন্য রকম আবহ।
০৯ / ১২
ঐতিহ্যবাহী শাড়ি থেকে আধুনিক কর্ড সেট, সোনমের পোশাক নির্বাচনে ছিল নানা রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। বিশেষ করে সাদা-সোনালি এবং গোলাপি-কমলার মেলবন্ধনে ধরা পড়েছে উৎসবের আভিজাত্য। সাজের সঙ্গে বাংলা গানের বাছাইও যেন সেই আবহকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
১০ / ১২
সোনালি ঝুমকো, বড় কানের দুল, কপালের টিকলি—অলঙ্কারের ব্যবহারে সোনমের সাজে এসেছে উৎসবের পূর্ণতা। কোথাও সাবেক, কোথাও আধুনিক, তবে প্রতিটি লুকেই গয়নার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা পুজোর গান সেই সাজে যোগ করেছে আবেগের অন্য মাত্রা।
১১ / ১২
নবরাত্রি উপলক্ষে ছবি পোস্ট করলেও সোনমের গানের তালিকায় বার বার জায়গা পেয়েছে বাংলা দুর্গাপুজোর গান। মনামী ঘোষের সঙ্গে যুক্ত গান থেকে মোনালি ঠাকুরের কণ্ঠ—বাছাইয়ে স্পষ্ট বাংলার উৎসবের সুরের উপস্থিতি।
১২ / ১২
উৎসব আলাদা, ভাষা আলাদা, কিন্তু আনন্দের আবেগে যেন কোনও সীমানা নেই। সোনমের নবরাত্রির ছবিতে বাংলা পুজোর গানের বার বার ফিরে আসা সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়। সাজে বলিউডি আভিজাত্য, আর গানে বাঙালির উমা-বন্দনা—এই মেলবন্ধনেই নজর কেড়েছে অভিনেত্রীর পোস্ট। এই প্রতিবেদনটি 'আনন্দ উৎসব' ফিচারের একটি অংশ।'
