বলিউডের সোনালী প্রজন্মের উজ্জ্বল নক্ষত্র ও প্রবীণ অভিনেত্রী অরুণা ইরানি তাঁর দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গী ও প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা কুকি কোহলির প্রয়াণের শোক কাটিয়ে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন। ২৫ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে ৭৭ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরবিদায় নেন নির্মাতা কুকি কোহলি। এই অপূরণীয় ক্ষতির ঠিক দুই মাস পর, শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে কাজে ফেরার ঘোষণা দিলেন এই বরেণ্য অভিনেত্রী, যা তাঁর অদম্য পেশাদারিত্ব ও জীবনবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি আবেগঘন ভিডিওবার্তায় অনুরাগীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অরুণা ইরানি। ভিডিওটিতে অত্যন্ত মনমুগ্ধকর ও হৃদয়গ্রাহী ভঙ্গিতে তিনি জানান, কুকু জির মহাপ্রয়াণের পর ভক্তদের অন্তহীন ভালোবাসা ও মানসিক সমর্থনই তাঁকে এই কঠিন সময় পার করে আবারও কর্মজগতে ফিরতে সাহায্য করেছে। তিনি বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে বলেন যে, ভক্তদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্যই তিনি আজ পুনরায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছেন এবং জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সবার এই সান্নিধ্য কামনা করেন।
স্মরণীয় চলচ্চিত্র 'ফুল অর কাঁটে'র মাধ্যমে রূপালি পর্দায় অজয় দেবগনকে লঞ্চ করার মূল কারিগর কুকি কোহলি ২৪ আগস্ট গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ২৫ আগস্ট বিকেল ৫টায় এই প্রতিভাবান নির্মাতা না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। এরপর ২৬ আগস্ট দুপুরবেলা তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়, যেখানে প্রিয় স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে সজল নয়নে ভেঙে পড়েন অরুণা ইরানি ও তাঁর স্বজনরা।
শিশুশিল্পী হিসেবে রূপালি দুনিয়ায় পথচলা শুরু করা অরুণা ইরানি পরবর্তীতে তাঁর অসামান্য অভিনয় প্রতিভা দিয়ে নেতিবাচক ও চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে বলিউডে এক অবিসংবাদিত স্থান দখল করে নেন। 'ক্যারাভান', 'ববি', 'বেটা', 'রাজা বাবু' এবং 'দিল তো পাগল হ্যায়'-এর মতো আইকনিক চলচ্চিত্রে তাঁর চিরস্মরণীয় উপস্থিতি ভারতীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে আছে। বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দায় 'দেশ মে নিকলা হোগা চাঁদ' ও 'ঝাঁসি কি রানি'-র মতো দর্শকপ্রিয় মেগা সিরিয়ালে অভিনয় করে তিনি হিন্দি, মারাঠি ও গুজরাটি বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের বহুমুখী প্রতিভার অনন্য স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।
