উৎসব মানেই আনন্দ, নতুন পোশাক, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো আর ঘরজুড়ে উৎসবের আমেজ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তাই ঘর সাজানোর প্রস্তুতিও থাকে
অনেকের। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের নিমন্ত্রণ জানাতে ঘরকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় করে তুলতে চান সবাই। এজন্য খুব বেশি খরচ করার প্রয়োজন নেই। একটু পরিকল্পনা, পছন্দের রং আর সাজসজ্জার কিছু উপকরণ দিয়েই বদলে দেওয়া যায় ঘরের চেহারা।
পরিচ্ছন্নতা ও গোছানো ঘর
ঘর সাজানোর প্রথম ধাপ হলোÑ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। ঘরে জমে থাকা পুরোনো খবরের কাগজ, অব্যবহৃত জিনিসপত্র ও অপ্রয়োজনীয় আসবাব সরিয়ে ফেলুন। আলমারি ও ওয়ারড্রোবের পোশাকগুলো গুছিয়ে রাখুন। দৈনন্দিন ব্যবহারের পোশাকের সঙ্গে উৎসবের পোশাক আলাদা করে রাখলে প্রয়োজনের সময় সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে। ড্রেসিং টেবিলেও অপ্রয়োজনীয় প্রসাধনী না রেখে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো হাতের কাছে সাজিয়ে রাখুন।
বসার ঘর, শোবার ঘর ও রান্নাঘর পরিষ্কার করার পাশাপাশি বাথরুমের দিকেও নজর দিন। রান্নাঘরের মসলার কৌটা ও বাসনপত্র পরিষ্কার করে গুছিয়ে রাখুন। ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিন ব্যবহার করুন এবং রান্নাঘরের তেলচিটে জায়গা উপযুক্ত পরিষ্কারক দিয়ে পরিষ্কার করুন। বাথরুমে খালি বোতল ও অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে পরিষ্কার তোয়ালে রাখুন। পরিচ্ছন্ন ঘর অতিথিদের কাছে যেমন ভালো লাগবে, তেমনি উৎসবের দিনগুলোতেও স্বস্তি মিলবে।
রং, ফুল ও আলোয় উৎসবের সাজ
ঘরের সাজে নতুনত্ব আনতে পর্দা, বিছানার চাদর, কুশন কভার ও টেবিল ম্যাট পরিবর্তন করতে পারেন। পূজার আবহ ফুটিয়ে তুলতে লাল, সাদা, হলুদ, কমলা কিংবা সোনালি রং বেছে নিতে পারেন। তবে ঘরের দেয়াল, আসবাব ও অন্যান্য সাজসজ্জার সঙ্গে রঙের সামঞ্জস্য রাখা জরুরি। উজ্জ্বল রঙের সঙ্গে হালকা রঙের সমন্বয় ঘরকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
উৎসবের সাজে ফুলের ব্যবহার বরাবরই বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ কিংবা শিউলি ফুল দিয়ে ঘরের প্রবেশপথ, খাবার টেবিল ও পূজার স্থান সাজাতে পারেন। ফুলের মালা দিয়ে দরজা সাজানো কিংবা ফুলদানিতে তাজা ফুল রাখা ঘরে এনে দেবে স্নিগ্ধতা। পাশাপাশি ফেয়ারি লাইট, ছোট লণ্ঠন ও নান্দনিক আলোকসজ্জা ব্যবহার করে সন্ধ্যার পরিবেশকে আরও মনোরম করে তুলতে পারেন। প্রদীপ বা মোমবাতি ব্যবহার করলে পর্দা ও দাহ্য বস্তু থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
অন্দরসজ্জায় প্রকৃতির ছোঁয়া
ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে গাছের ব্যবহার করতে পারেন। মানিপ্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, পিস লিলি কিংবা অ্যালোভেরার মতো গাছ মানানসই টবে বসিয়ে ঘরের বিভিন্ন কোণে রাখুন। জানালার পাশে, বসার ঘরের এক কোণে কিংবা বারান্দায় গাছ সাজালে ঘরে সতেজ ও প্রশান্ত পরিবেশ তৈরি হবে। গাছের টব বেছে নেওয়ার সময় ঘরের সাজের সঙ্গে মানানসই রং ও নকশা বেছে নিতে পারেন।
এ ছাড়া আসবাবপত্রের অবস্থান সামান্য পরিবর্তন করেও ঘরে নতুনত্ব আনা সম্ভব। সোফা, ছোট টেবিল কিংবা শেলফের অবস্থান এমনভাবে ঠিক করুন, যাতে চলাচলে অসুবিধা না হয় এবং ঘর খোলামেলা থাকে। দেয়ালে পছন্দের ছবি, শিল্পকর্ম কিংবা হাতে তৈরি সাজসজ্জার উপকরণ ব্যবহার করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত শোপিস দিয়ে ঘর ভরিয়ে না রেখে পরিমিত সাজের দিকে নজর দিন।
বারান্দাকেও সাজিয়ে তুলতে পারেন একটু ভিন্নভাবে। মেঝেতে ছোট কার্পেট, কয়েকটি আরামদায়ক চেয়ার ও রঙিন টব দিয়ে তৈরি করুন বসার সুন্দর জায়গা। দেয়ালে ঝুলন্ত টবে ছোট গাছ রাখতে পারেন। বারান্দায় পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে ছোট দোলনা বা ঝুলন্ত চেয়ারও যোগ করা যায়। রাতে আলো জ্বালানোর জন্য গ্রিল বা দেয়ালে নিরাপদভাবে ফেয়ারি লাইট লাগালে বারান্দার সৌন্দর্য আরও বেড়ে যাবে।
পূজায় ঘর সাজানোর জন্য যে বড় বাজেটের প্রয়োজন, তা নয়। পুরোনো ফুলদানি, নিজের হাতে তৈরি আলপনা, রঙিন কাগজের সাজ কিংবা পছন্দের কিছু উপকরণ দিয়েও ঘরে উৎসবের আবহ তৈরি করা যায়। প্রয়োজন শুধু একটু সময়, পরিচ্ছন্নতা ও সৃজনশীলতা। সব মিলিয়ে আপনার ঘর হয়ে উঠুক সুন্দর, পরিপাটি ও আনন্দময়Ñ যেখানে পরিবার, বন্ধু ও অতিথিদের সঙ্গে কাটবে পূজার আনন্দঘন মুহূর্ত।
