অনলাইন ডেস্ক
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার চক্রের সদস্যরা চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে ১০ লাখ টাকার লিখিত চুক্তি করতেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি প্রার্থীদের মূল শিক্ষাসনদ জমা রাখা হতো। পুরো টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত সনদ ফেরত দেওয়া হতো না।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, আগাম পুরো টাকা দিতে না পারা প্রার্থীদের কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা উল্লেখ করা স্বাক্ষরিত ব্যাংক চেক নেওয়া হতো। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তাঁদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, চাকরিপ্রার্থীদের ১০টি মূল সনদ এবং অন্তত ৪০ জনের ব্যাংক চেকের পাতা ও চেক বই জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তিনজন কর্মী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মচারী, পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মী এবং চক্রের আরও দুই সদস্য রয়েছেন। গতকাল আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীনের ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ মুঠোফোনে প্রশ্নপত্রের একটি অস্পষ্ট ছবি পান। সকাল সোয়া ছয়টার দিকে একই প্রশ্নপত্রের আরও স্পষ্ট ছবি পান এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর। পরে প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়। তাঁদের মাধ্যমে উত্তরপত্র পৌঁছে যায় সম্ভাব্য পরীক্ষার্থী ও গ্রাহকদের কাছে।
তদন্তকারীরা বলছেন, প্রশ্নপত্রটি কার কাছ থেকে এবং কীভাবে চক্রের হাতে পৌঁছেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
## মামলা সিআইডিতে হস্তান্তর
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মতিঝিল থানায় করা মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মীর্জা মোহাম্মদ মুক্তা জানিয়েছেন, রোববার মামলার নথিপত্র সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে গত শনিবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তবে কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। এর মধ্যেই গত শুক্রবার নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষাটি নেওয়া হয়েছে।
১০ অক্টোবর ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এতে অংশ নেওয়ার জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়েছিলেন ৩ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৬ জন প্রার্থী। ঢাকা মহানগরের ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সূচি ছিল।
কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল ১০টা ৩ মিনিটে পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। পরদিন ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. আতিকুর রহমান বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা করেন।
